
অপহৃত নবি হোসেন
জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার যুবক নবি হোসেন। রিয়াদের আজিজিয়া এলাকা থেকে একটি মাফিয়া চক্র তাকে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের পর চক্রটির দেওয়া বাংলাদেশি বিকাশ নম্বরে দফায় দফায় মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর পরও নবি হোসেনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
এই ঘটনায় বাহুবল উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের গকুলপুর গ্রামে নবি হোসেনের দেশের বাড়িতে স্বজনদের মাঝে চলছে চরম আহাজারি ও হতাশা।
অপহৃতের বড় ভাই জমির আলী জানান, গত ২ জানুয়ারি স্থানীয় করিমপুর গ্রামের তারেক মিয়া নামের এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি দেন নবি হোসেন। সেখানে তিনি রিয়াদের আজিজিয়া এলাকার চারমিনা মসজিদের সামনে একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন। গত ৩ জুন নবি হোসেন বাড়িতে ফোন দিয়ে বেতন পাওয়ার কথা জানান এবং পরদিন ৪ জুন দেশে টাকা পাঠানোর কথা বলেন। কিন্তু এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়।
ভাইয়ের নিখোঁজের বিষয়ে দালাল তারেক মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। ঘটনার ১৩ দিন পর, গত ১৫ জুন অপহরণকারীরা একটি বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর (০১৮৫৭৬৪০০০) থেকে ফোন করে বড় অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। ভাইয়ের জীবনের মায়ায় জমির আলী ওই দিনই ওই বিকাশ নম্বরে ৩৪ হাজার টাকা প্রেরণ করেন। তখন অপহরণকারী চক্র জানিয়েছিল, মুক্তিপণ পেলে নবি হোসেনকে মক্কায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
কিন্তু নবি হোসেনকে মুক্তি না দিয়ে ১৬ জুন পুনরায় আরও টাকা দাবি করে মাফিয়া চক্রটি। নিরুপায় হয়ে জমির আলী ওই দিনই বিকাশ নম্বরে আরও সাত হাজার টাকা পাঠান। এরপরও নবি হোসেনের কোনো সন্ধান না পেয়ে এবং অপহরণকারীদের ফোন বন্ধ পাওয়ায় হতাশ ও ভেঙে পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। বর্তমানে তারা নবি হোসেনকে জীবিত উদ্ধারে সরকারের জরুরি ও কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
প্রবাসী অপহরণের এই চাঞ্চল্যকর বিষয়ে জানতে চাইলে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, এই ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। স্বজনদের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।