
ছবি: সংগৃহীত
ম্যাচ তখন একদম শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষায়। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পার হয়ে চলছে ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ তথা শেষ মুহূর্তের খেলা। ঠিক এমনই এক নাটকীয় সময়ে আচমকা গোল করে বসল ঘানা, যা মুহূর্তের মধ্যে লণ্ডভণ্ড করে দিল পানামার রক্ষণভাগ। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে টরন্টো স্টেডিয়ামে ইনজুরি টাইমের অন্তিম মুহূর্তের গোলে পানামাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আফ্রিকান পরাশক্তি ঘানা।
টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের প্রথমার্ধ অবশ্য ছিল বেশ নিরুত্তাপ। খেলা শুরুর মাত্র দুই মিনিটের মাথায় পানামার ফরোয়ার্ড ওয়াটারম্যানের একটি চমৎকার শট ঘানার গোলরক্ষক আতি জিগিকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল। তখন মনে হয়েছিল ম্যাচটি দারুণ জমবে, কিন্তু প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর তেমন কোনো রোমাঞ্চ ছড়াতে পারেনি কেউ। প্রথম হাফে ঘানার পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক, তারা অত্যন্ত ধীরগতিতে ও উদ্যমহীন ফুটবল খেলে প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষের চেয়ে পিছিয়ে ছিল।
বিরতির পর দ্বিতীয় হাফে অবশ্য দুই দলই সমানে সমান লড়াই শুরু করে। তবে ফিনিশিংয়ের অভাবে কিছুতেই গোলের দেখা মিলছিল না। নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যখন অতিরিক্ত সময়ের খেলা গড়ায়, তখন সবাই ধরেই নিয়েছিল ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হতে যাচ্ছে। কিন্তু নাটকের তখনও অনেক বাকি ছিল। ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে এসে অবিশ্বাস্য এক আক্রমণে ডেডলক ভাঙে ঘানা।
পুরো দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে দারুণ খেলা সেমেনিও বাম দিক দিয়ে ছুটে যাওয়া থমাস-আসান্তেকে লক্ষ্য করে বল বাড়িয়ে দেন। কভেন্ট্রি সিটির এই ফরোয়ার্ড পানামার ডিফেন্ডার কর্দোবাকে পরাস্ত করে গোলমুখে একটি নিচু ক্রস পাঠান। সেখানে ওত পেতে থাকা সালেব ইয়েরেঙ্কি সর্বশক্তি দিয়ে সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং আলতো ছোঁয়ায় তা গোললাইনের ওপারে ঠেলে দেন। ইয়েরেঙ্কির এই গোলের সাথে সাথেই টরন্টোর গ্যালারিতে আফ্রিকান সমর্থকদের উল্লাসের গর্জন আছড়ে পড়ে, যা পানামার ফুটবলারদের স্তব্ধ করে দেয়।