
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ০৭ ডলারে নেমে আসে। এর ফলে আগের দিনের তুলনায় দাম প্রায় একই অবস্থানে ফিরে যায়। বর্তমানে ব্রেন্টের দাম ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর আগের সময়ের তুলনায় মাত্র ৭ শতাংশ বেশি রয়েছে।
এর আগে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান চুক্তির শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে। তার এ মন্তব্যের পর তেলের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলারের ওপরে উঠে যায়। তবে পরে শান্তি চুক্তির অগ্রগতির খবরে বাজারে আবার স্বস্তি ফিরে আসে।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার আশায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২ শতাংশের বেশি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাইওয়ানের তাইএক্স সূচকও ১ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক, যা ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার খোলার আগেই ফিউচার ট্রেডিংয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের ফিউচার প্রায় ০ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিটের ফিউচার প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
তার দাবি অনুযায়ী, ইরান সঙ্গে সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে। তবে এ ঘোষণার ফলে বাস্তবে সামুদ্রিক বাণিজ্য কতটা দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম। কারণ সেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও মাইনের ঝুঁকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বের হওয়ার অপেক্ষায় ৫০০টিরও বেশি জাহাজ অবস্থান করছে।
শিপিং কোম্পানিগুলো বলছে, নিরাপদে চলাচলের জন্য এখনো পর্যাপ্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তিটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।