
প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল
চার বছর পর প্রথমবারের মতো পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবিসি, দ্য টেলিগ্রাফ এবং আইটিভি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, আগামী মাসে নির্ধারিত এই সফরে হ্যারি ও মেগানের সঙ্গে তাদের দুই সন্তান—সাত বছর বয়সী আর্চি এবং পাঁচ বছর বয়সী লিলিবেটও থাকবে। ২০২১ সালের পর এই প্রথম পুরো পরিবার একসঙ্গে যুক্তরাজ্য সফর করবে।
২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে উত্তর আমেরিকায় পাড়ি জমান প্রিন্স হ্যারি ও মেগান। বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করছেন। রাজপরিবার ছাড়ার পর থেকে তাদের সঙ্গে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে চলে আসে।
টেলিভিশন সাক্ষাৎকার ও হ্যারির আত্মজীবনীতে এই দম্পতি যুক্তরাজ্য ছাড়ার পেছনে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড গণমাধ্যমের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ, প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ, অনলাইন হয়রানি, পারিবারিক জটিলতা এবং আর্থিক স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
গত কয়েক বছরে প্রিন্স হ্যারি কয়েকবার স্বল্প সময়ের জন্য যুক্তরাজ্যে গেছেন। ২০২২ সালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় এবং ২০২৩ সালে তার বাবা রাজা তৃতীয় চার্লসের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে হ্যারি তার বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ইংল্যান্ডে যান। প্রায় ১৯ মাস পর বাবা-ছেলের সেই সাক্ষাৎ রাজপরিবারের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি ডেইলি মেইল পত্রিকার প্রকাশকের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে যুক্তরাজ্য সফর করেন।
প্রিন্স হ্যারি এর আগেও পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। ফলে তার সাম্প্রতিক সফরগুলো রাজপরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ কমে আসছে কি না, সে বিষয়ে জল্পনা বাড়িয়েছে।
তবে আগামী মাসের সফরে রাজা তৃতীয় চার্লস তার নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দেখা করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সর্বশেষ ২০২২ সালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপনের সময় আর্চি ও লিলিবেটের সঙ্গে তার সরাসরি দেখা হয়েছিল।