
মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধির ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো সোনার দাম কমেছে। শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৪ দশমিক ৩৩ ডলারে নেমেছে। সপ্তাহের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সোনার দাম প্রায় ০.৯ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে আগস্ট সরবরাহের মার্কিন গোল্ড ফিউচার ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০২ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে মার্কিন ডলার। ফলে অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকদের বড় একটি অংশ চলতি বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দেওয়ায় বাজারে সোনার ওপর চাপ বেড়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও কঠোর মুদ্রানীতির প্রত্যাশাই এখন সোনার বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
এদিকে সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বেড়ে ৮৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ফেডের সর্বশেষ বৈঠকের আগে ছিল ৬১ শতাংশ। সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার বিনিয়োগ আকর্ষণ সাধারণত কমে যায়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্স ডিসেম্বরের জন্য সোনার মূল্য লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার ৪০০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪ হাজার ৯০০ ডলার নির্ধারণ করেছে।
এদিকে সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম ১.৫ শতাংশ, প্ল্যাটিনামের দাম ১.৩ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স