
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার পর ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এখনো ওই এলাকায় মোতায়েন থাকবে।
চুক্তির পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে কিছু আপত্তি থাকলেও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের আশ্বাসের ভিত্তিতেই তিনি চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্প হতাশা থেকেই নানা চাপ প্রয়োগ করে এই চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হলেও তা ওয়াশিংটনের অবস্থান মেনে নেওয়ার সমার্থক হবে না।
সমঝোতার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার অঙ্গীকার এবং দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন। এছাড়া ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রয়োজনে উভয় পক্ষের সম্মতিতে বাড়ানো যাবে।
মূলত শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আয়োজন হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, দূরবর্তী পদ্ধতিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ায় সেই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। তবে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সফর আপাতত স্থগিত হলেও তিনি জানিয়েছেন, কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা এগিয়ে নিতে শিগগিরই সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের জন্য পুনর্গঠন তহবিল গঠনের বিষয়টি নিয়ে রিপাবলিকান দলের একাংশ তীব্র সমালোচনা করেছে। রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি একে ‘দশকের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতি ব্যর্থতা’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে ভ্যান্স বলেছেন, ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হলে তেহরান কোনো আর্থিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার সুযোগ পাবে না।
এদিকে চুক্তি ঘোষণার পরও ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলের কয়েকজন মন্ত্রী চুক্তির বিরোধিতা করলেও ভ্যান্স তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘বাস্তবতা মেনে নেওয়ার সময় এসেছে।’ একই সঙ্গে তিনি বৈরুতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ফলে শান্তি চুক্তি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে এখনো সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্র: বিবিসি