
সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলোচনা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এর কারণ জানায়নি
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত শান্তি আলোচনা শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে, শুক্রবার দেশটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা দুই পক্ষের আলোচনা আর হচ্ছে না। একই সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফরও বাতিল করা হয়েছে।
সুইস আল্পসের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে আলোচনাটি হওয়ার কথা ছিল। তবে সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলোচনা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এর কারণ জানায়নি। অন্যদিকে ইরানও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতার মাধ্যমে অন্তত ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা শুরু করার আগে তারা অন্তর্বর্তী চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চায়।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ ইতোমধ্যে অন্তত ৭ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে শান্তি আলোচনার বাইরে থাকা ইসরায়েল চুক্তি থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে এবং লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবারও লেবাননে নতুন ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষরিত সমঝোতায় ইরান বেশি লাভবান হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সমঝোতায় তেহরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা, ৩০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং তেল রপ্তানিতে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, ট্রাম্প ‘চাপের মুখে’ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শর্ত চাপিয়ে দিতে চাইলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন দুই পক্ষের আলোচকরা। এছাড়া ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
তবে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান মিত্রদের একাংশের অভিযোগ, যুদ্ধ বন্ধ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধ টিকিয়ে রেখে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করে এখন আগের চেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে তেহরান।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করায় শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এ পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা যুদ্ধ থামানোর সুযোগ তৈরি করলেও আলোচনা স্থগিত হওয়া, পারমাণবিক ইস্যুতে মতপার্থক্য এবং লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
বাংলা টেলিগ্রাফ স্পোর্টস- বিটিএস