
ফাইল ছবি
ইরানের তীব্র হুমকি ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত কূটনৈতিক চাপের মুখে অবশেষে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৪টা থেকে লেবাননে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
সাম্প্রতিক রক্তাক্ত সংঘর্ষের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলে এই যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাকে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তিটি প্রতিষ্ঠায় মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইরানও যৌথভাবে এই চুক্তির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা টাইমস অব ইসরায়েলকে জানিয়েছেন, যথাক্রমে ইসরায়েল ও ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার এই চুক্তিটি সম্পন্ন করেছে, যা লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর তেহরানের প্রভাব ও সক্ষমতাকে আবারও স্পষ্ট করে তোলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক এএফপিকে বলেন, “কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তির মাধ্যমে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল সংঘাত বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।”
নতুন এই যুদ্ধবিরতি এমন এক সময়ে এলো যখন ইসরায়েল জোর দিয়ে আসছিল যে, তারা ট্রাম্প প্রশাসন এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক দ্বারা আবদ্ধ নয়। তবে গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১৬ জন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
এই হামলার পর তেহরান আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্টের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়। এর পরপরই ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মানতে ওয়াশিংটন তীব্র চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করে, যা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়। এমনকি সম্প্রতি জি-সেভেন বৈঠকে অংশগ্রহণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার নিন্দা জানিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, ‘একজন যোদ্ধার জন্য ইসরায়েল পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট ধ্বংস করতে পারে না।’
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এলেও শুক্রবার বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফ্রিন বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান।
তিনি দাবি করেন, হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চললেও দক্ষিণ লেবাননে যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইসরায়েলি সেনাদের “পূর্ণ স্বাধীনতা” রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা বিদ্যমান রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সেই নির্দেশনায় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আমাদের কার্যক্রমও একইভাবে চলবে।”
যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে কি না এবং এর বিস্তারিত শর্তাবলি কী হবে, সে বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে সংঘাত প্রশমনে পর্দার আড়ালে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।