
কাজী নওশাবা আহমেদ
আপনার আর্জেন্টিনা সমর্থক হওয়ার পেছনে কী কোনো গল্প আছে?
ছোটবেলায় ডিয়েগো ম্যারাডোনার অনেক গল্প শুনতাম। তখন মনের ভেতর একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, এই আকাশী-নীল বা নীল-সাদা রঙের দলের মানুষেরা ভীষণ ভালো ফুটবল খেলে এবং ম্যারাডোনা এই দলেরই সেরা জাদুকর। সত্যি বলতে, শৈশবে আমার কাছে ফুটবল মানেই ছিল আর্জেন্টিনা। এর বড় একটা কারণ আমার মা, তিনি আর্জেন্টিনার একজন একনিষ্ঠ ভক্ত। মাঝে জার্মানির খেলাও আমার বেশ ভালো লাগত। তবে লিওনেল মেসি আসার পর দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। মেসি সম্পর্কে জানার পর, তার বিনয়ী ব্যক্তিত্ব আর অসাধারণ খেলোয়াড়ী শৈলী দেখে আমি তার প্রেমে পড়ে যাই। মূলত মেসির কারণেই এখন আমি আর্জেন্টিনার ভক্ত।
বিশ্বকাপের সময় আপনার ভেতরের সমর্থক নওশাবািআর অভিনেত্রী নওশাবার মধ্যে কে বেশি সক্রিয় হয়ে থাকে?
বিশ্বকাপ শুরু হলেই আমার ভেতরের উৎসবমুখর নওশাবা পুরোপুরি জেগে ওঠে। তখন শুটিং বা অভিনয়ের চেয়ে খেলা দেখার আনন্দটাই বড় হয়ে দাঁড়ায়। আমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে বড় স্ক্রিনে খেলা দেখার আয়োজন করি, যাতে আমার থিয়েটারের ছেলেমেয়েরা আমার ও আমার মায়ের সাথে বসে একসাথে খেলা উপভোগ করতে পারে। সবাই মিলে হইচই করতে করতে, মুড়ি মাখা খেতে খেতে খেলা দেখার মজাই আলাদা। কাজের ব্যস্ততার কারণে হয়তো সব ম্যাচ নিখুঁতভাবে দেখার সময় পাই না, তবে এই জম্পেশ আয়োজনটা আমি ভেতর থেকে ভীষণ উপভোগ করি।
আর্জেন্টিনার ম্যাচের দিন আপনার কোনো বিশেষ রুটিন থাকে কি?
বিশেষ রুটিন তো অবশ্যই থাকে। যেমন গত বিশ্বকাপের সময় একটা ঘটনা বলি—আর্জেন্টিনার একটা ম্যাচ ছিল একদম সকাল বেলা। সেই খেলাটা দেখার জন্য আমরা আগের রাতেই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। এরপর ভোর ৬টায় উঠে আমি, আমার মা এবং আমার মেয়ে একসাথে বসে গেলাম টিভির সামনে। আমাদের সাথে যোগ দিয়েছিল থিয়েটারের কয়েকজন সদস্যও। আমরা একসাথে টানটান উত্তেজনার খেলাও দেখলাম, আবার সকালে সবাই মিলে আনন্দ করে নাস্তাও করলাম। এবারও আর্জেন্টিনার ম্যাচের দিনগুলোতে এমন বিশেষ পরিকল্পনা থাকবে।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিকের পর আপনার উদযাপনটা কেমন ছিল?
সত্যি বলতে, জীবনের যেকোনো আনন্দঘন বা উৎসবের পরিবেশে আমি আমার বাবাকে ভীষণ মিস করি। গতবার যখন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতেছিল, তখন আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সবাই মিলে বাঁধভাঙা উল্লাস করেছিলাম। আর আলজেরিয়ার বিপক্ষে যখন মেসি হ্যাটট্রিক করলেন, তখন খুশিতে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম। সেই জাদুকরী মুহূর্তে মনে মনে তীব্র ইচ্ছা জেগেছিল—ইস! যদি মেসিকে একবার সামনে থেকে সরাসরি দেখার সুযোগ পেতাম!
ম্যাচ চলাকালে আপনি সাধারণত কেমন থাকেন? শান্ত সমর্থক, নাকি চিৎকার-চেঁচামেচি করে পুরো ঘর মাথায় তোলেন?
সেটা আসলে ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। কখনো একদম চুপচাপ, শান্ত হয়ে খেলা দেখি, আবার কখনো উত্তেজনায় চিৎকার-চেঁচামেচি করে পুরো ঘর মাথায় তুলি। মাঠের খেলার ওঠা-নামার সাথে সাথে আমার মুডও একেক সময় একেক রকম হয়ে যায়।
আর্জেন্টিনা যদি এবারও বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখে, তাহলে আপনার উদযাপনটা কেমন হবে?
এবার আর্জেন্টিনা জিতলে আমাদের আনন্দের সীমা থাকবে না। কারণ আমার পরিবারে আমার মা, আমার মেয়ে এবং আমি—আমরা তিনজনই আর্জেন্টিনার কট্টর ভক্ত। আমরা তিন প্রজন্ম একসাথে শাড়ি পরে নাচব এবং ভীষণ আনন্দ করব। আর আমার একটা অভ্যাস আছে, বেশি আনন্দ হলে আমি গাছ লাগাই। তাই এবার দল জিতলে আমি অনেক গাছ লাগাব। এছাড়া আরও একটি বিশেষ পরিকল্পনা করে রেখেছি, আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে আমি নিজে খিচুড়ি রান্না করে আমাদের চারপাশের পথশিশুদের পেট পুরে খাওয়াব।
বাংলা টেলিগ্রাফ স্পোর্টস- বিটিএস