
আজকের দুপুরটা অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে একটু আলাদা। বছরের এই একটি দিন দুপুরে ঠিক কিছুক্ষণের জন্য মাটিতে তাকালে আপনি নিজের ছায়াও দেখতে পাবেন না। মহাজাগতিক এক অদ্ভুত নিয়মে আজ ২১ জুন, উত্তর গোলার্ধের জন্য বছরের সবচেয়ে দীর্ঘতম দিন এবং ক্ষুদ্রতম রাত।
আবহাওয়া অফিসের হিসাব বলছে, আজ ভোর ৫টা ১২ মিনিটে পূর্ব আকাশে সূর্যের যে উদয় হয়েছে, তা সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত পুরো আকাশ জুড়ে নিজের রাজত্ব ধরে রাখবে। অর্থাৎ, আজ মানুষ প্রায় ১৩ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট ধরে দিনের আলো উপভোগ করতে পারছে।
মহাকাশবিজ্ঞানের এক চমৎকার খেলাই এর জন্য দায়ী। পৃথিবী তার অক্ষে সোজা না থেকে কিছুটা হেলে ঘোরে। সূর্যের চারপাশে ঘোরার এই চক্করে বছরের এই সময়ে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে পড়ে। আজ দুপুরে সূর্য একদম কর্কটক্রান্তি রেখার কাছাকাছি অবস্থান করায় উত্তর মেরুর দেশগুলোতে সূর্যের আলো পৌঁছায় সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে। বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিশেষ ঘটনাকে বলা হয় ‘গ্রীষ্মকালীন অয়ন’ বা ‘সামার সোলস্টিস’।
তবে প্রকৃতির এই মুদ্রাটির এপিঠ-ওপিঠ দুই রকম। আমরা যখন আজ বছরের দীর্ঘতম দিন পার করছি, পৃথিবীর ঠিক উল্টো দিকে অর্থাৎ দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে আজ চলছে বছরের সবচেয়ে ছোট দিন আর দীর্ঘতম রাত।
আজকের এই দীর্ঘতম দিনের পর থেকে উত্তর গোলার্ধে সূর্যের আলো পাওয়ার সময়টুকু আস্তে আস্তে কমতে শুরু করবে। দিন ছোট হতে হতে আগামী ২২ ডিসেম্বর গিয়ে ঠেকবে বছরের সবচেয়ে ছোট দিনে।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, প্রাচীন ইউরোপের মানুষ এই দিনটিকে প্রকৃতির এক বিশেষ আশীর্বাদ মনে করত। তারা এই উৎসবের দিনটি পার করেই মাঠে নামত নতুন ফসল বোনার কাজে। ঘড়ির কাঁটা আর ক্যালেন্ডারের এই পরিবর্তন আসলে আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মহাবিশ্বের প্রতিটি নিয়মের পেছনে লুকিয়ে আছে কতটা নিখুঁত আর রোমাঞ্চকর বিজ্ঞান।
ভিজুয়াল স্টোরি