
মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কারাগারে আটকে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের মুক্তির বিষয়ে দেশটির সরকারের সঙ্গে বিশেষ উদ্যোগ ও আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার ওপর তাঁর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আজ রোববার (২১ জুন) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে কুয়ালালামপুরের হোটেল সাংগ্রিলায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ ও মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন কারাগারে দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক আটক রয়েছেন। সফরকালে তাঁদের মুক্তির সম্ভাবনা ও আইনি করণীয় নিয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিশেষ আলোচনা ও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণেই তিনি এই সফরে এসেছেন। সফরকালে কর্মরত বাংলাদেশিদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মী নিয়োগের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
প্রবাসী কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে কারিগরি ও ভাষা শিক্ষার বিকল্প নেই। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া শ্রমিকদের জন্য আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে দেশের টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।” আগামী এক দশকে বিশ্বের কোন কোন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে বলেও তিনি জানান।
মালয়েশিয়ার উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশটিতে এসে তিনি যে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ লক্ষ্য করেছেন, তাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। প্রবাসীদের পাশাপাশি বাংলাদেশের আইটি খাতে বিনিয়োগের জন্য মালয়েশিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে, রবিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে পৌঁছান।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নিয়ে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সফরকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এগিয়ে নিতে ‘টামর্স অব রেফারেন্স’ (টিওআর) সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদার করতে পৃথক আরেকটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হতে পারে।
শীর্ষ পর্যায়ের এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি, হালাল শিল্প ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের পাশাপাশি আসিয়ান এ বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে।