
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে জোরালোভাবে আলোচনা চলছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গুলোতে। তারা বলছে সোমবারই তিনি পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন। এবার এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শিগগিরই স্টারমার পদত্যাগ করবেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (২১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন।’
খবর সিএনএন।
তবে ট্রাম্প এ তথ্যের উৎস সম্পর্কে কিছু জানাননি। তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মন্তব্য করেছেন নাকি চলমান রাজনৈতিক জল্পনায় যোগ দিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম পিএ মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-সেভেন সম্মেলনে সাক্ষাতের পর থেকে ট্রাম্প ও স্টারমারের মধ্যে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে ট্রাম্প স্টারমারের নেতৃত্বাধীন মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টির সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে ব্যর্থতার কারণেই স্টারমারের রাজনৈতিক পতন ঘটতে যাচ্ছে।
ট্রাম্প লেখেন, ‘দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন—অভিবাসন এবং জ্বালানি।’ একই সঙ্গে তিনি উত্তর সাগরে নতুন তেল উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার আহ্বানও জানান।
এর আগে একাধিকবার ট্রাম্প ব্রিটিশ সরকারকে উত্তর সাগরে নতুন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান লাইসেন্স স্থগিত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোরও সমালোচনা করেছেন।
স্টারমারকে একসময় ‘ট্রাম্প হুইস্পারার’ নামে অভিহিত করা হতো। কারণ, অনেকের মতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের শুক্রবারের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করেন।
সেদিন স্টারমার বলেছিলেন, ‘এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে এবং আমি সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। জনগণ আমাকে দেশসেবার জন্যই নির্বাচিত করেছে।’
এদিকে ব্রিটিশ ব্যবসা ও বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, স্টারমার সপ্তাহান্তে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন এবং তিনি দেশের সর্বোত্তম স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
তবে তিনি সম্ভাব্য পদত্যাগের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, স্টারমার সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন। একই সঙ্গে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ম্যানচেস্টারের বিদায়ী মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি উপনির্বাচনে জয়ের পর তার প্রতি দলের সমর্থনও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান জল্পনা এবং ট্রাম্পের প্রকাশ্য মন্তব্য যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এখন নজর সোমবারের দিকে, যখন স্টারমার তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘোষণা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।