
সংগৃহীত ছবি
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে আবু তাহের (২২) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া লাশ গুমের চেষ্টার অপরাধে তাঁকে আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আজ সোমবার (২২ জুন) ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান এই ঐতিহাসিক ও দ্রুততম রায় ঘোষণা করেন। মামলার অভিযোগ গঠনের মাত্র ৭ কার্যদিবসের মধ্যে এই রায় দেওয়া হলো।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু তাহের, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে। এদিকে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার মূলত মহেশপুর উপজেলার বাসিন্দা হলেও কালীগঞ্জ বারবাজারের বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকত।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শিশুটির মা-বাবা বাড়িতে না থাকার সুযোগে আবু তাহের তাকে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশটি পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে। ঘটনার পরদিনই পুলিশ কুষ্টিয়া শহর থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
আদালত সূত্র আরও জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। ১৭ জুন মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তী কর্মদিবসে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে গতকাল রোববার যুক্তিতর্ক শেষ হয়।
ঘটনা ঘটার মাত্র ১১৬ দিনের মাথায় এবং অভিযোগ গঠনের মাত্র ৭ দিনের মধ্যে এই রায় ঘোষণা বিচারিক ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।