
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে হতাশাজনক ড্রয়ের পর পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে সমালোচনা বাড়লেও সতীর্থদের ওপর তাকে বল দেওয়ার কোনো চাপ নেই বলে জানিয়েছেন পর্তুগাল উইঙ্গার ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও।
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশ্লেষক। তাদের মতে, পর্তুগালের কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ডের কমে যাওয়া গতিশীলতা দলের জয়ের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ কনসেইসাও। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এমন কোনো চাপ অনুভব করি না যে রোনালদোকেই বল দিতে হবে। আমি বল সেই খেলোয়াড়কেই দিই, যাকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে এবং ফাঁকা জায়গায় দেখি।’
কনসেইসাও আরও বলেন, রোনালদো দলের অন্য সবার মতোই একজন সদস্য। ‘দলের সাফল্যের জন্য প্রত্যেক খেলোয়াড় গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিস্টিয়ানো তার অসাধারণ ক্যারিয়ার এবং ৪১ বছর বয়সেও একই ক্ষুধা ও মানসিকতা ধরে রাখার কারণে সবার জন্য অনুপ্রেরণা। নেতৃত্ব ও গোল করার ক্ষমতায় তার তুলনা নেই।’
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদো খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি। পুরো ম্যাচ খেলেও মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেন, যা পর্তুগালের হয়ে কোনো বড় টুর্নামেন্টে পূর্ণ ম্যাচ খেলার ক্ষেত্রে তাঁর সর্বনিম্ন স্পর্শের রেকর্ড।
এখনো পর্তুগালের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। মঙ্গলবার হিউস্টনে গ্রুপ ‘কে’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে দলটি। বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে এ ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই পর্তুগালের।
কনসেইসাও বলেন, ‘আমরা জানি প্রথম ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিতে পারিনি। ফল ভালো না হলে সমালোচনা ও চাপ বাড়বেই। তবে আমরা পরের ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে এবং জয় পেতে চাই।’
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর সাবেক ফরাসি তারকা থিয়েরি অঁরি রোনালদোর সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘দলের গোল দরকার, ব্যক্তিগত গোল নয়।’
এদিকে পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। অনেকের অভিযোগ, তিনি রোনালদোকে বেঞ্চে বসানো বা ম্যাচের মাঝপথে তুলে নেওয়ার সাহস দেখাতে পারছেন না।
সমালোচকদের মতে, মার্তিনেজের হাতে বিকল্পও রয়েছে। গনসালো রামোসের মতো কার্যকর স্ট্রাইকার দলে থাকলেও এখন পর্যন্ত রোনালদোর বিকল্প হিসেবে তাকে পুরোপুরি ব্যবহার করা হচ্ছে না।
তাই উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে পর্তুগাল কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং রোনালদোকে ঘিরে বিতর্কের জবাব দেয়, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের বড় আগ্রহের বিষয়।