
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার হাটঘাটা গ্রামে এক প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের দুঃসাহসিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে ১৩ থেকে ১৪ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল বাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
রোববার (২১ জুন) রাত দেড়টার দিকে উপজেলার হাটঘাটা গ্রামের হাজী বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির মালিক মো. খাইরুল ইসলাম মোল্লা প্রতিদিনের মতো পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে দরজায় শব্দ শুনে তিনি ও তাঁর স্ত্রী এগিয়ে গেলে একদল মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত দরজা ভেঙে জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে পড়ে।
ঘরে ঢুকেই ডাকাতরা প্রথমে খাইরুল ইসলামের ১৫ বছর বয়সী ছেলে মাহিকে বেঁধে ফেলে। এরপর খাইরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীকেও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে রাখে। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে পুরো ঘরের বিভিন্ন কক্ষ ও আলমারি তল্লাশি চালিয়ে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নতুন কাপড়চোপড় এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রবিবারের ঘটনার সময় ডাকাত দল খাইরুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতি শেষে পাশের আরও কয়েকটি বাড়িতে হানা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং দরজায় আঘাত করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ডাকাতির খবর পেয়ে সোমবার (২২ জুন) সকালে মধুখালী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত ডাকাতির ঘটনা। সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মালামাল লুটে নিয়েছে। আমিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।”
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”
এদিকে এই ঘটনার পর হাটঘাটা ও আশপাশের গ্রামগুলোতে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা রাতের নিরাপত্তা জোরদার করা, নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং দ্রুত ডাকাত দলকে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন।