
একই সময়ে ঘটে যাওয়া এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় কেন সবাই একভাবে টের পান না, তার কিছু স্পষ্ট কারণ আছে
সোমবার রাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হওয়া ৪ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্পটি নতুন করে এক পুরোনো বৈজ্ঞানিক বিতর্ককে সামনে এনেছে। ঝাঁকুনি টের পেয়ে বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের অনেকে যখন আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন, তখন একই এলাকার, এমনকি একই ঘরের অনেকেই বলছেন তারা কিছুই টের পাননি। একই সময়ে ঘটে যাওয়া এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় কেন সবাই একভাবে টের পান না, তার কিছু স্পষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ভূমিকম্প সবাই টের পান না এর মূল কারণ মানুষের শারীরিক সংবেদনশীলতা (সেনসিটিভিটি) এবং ভৌগোলিক অবস্থান। মানুষের কানের ভেতরের ‘ভেস্টিবুলার সিস্টেম’ যা গতি ও শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে, তা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম কাজ করে। যাদের এই সিস্টেম কম সংবেদনশীল, তারা মাঝারি মাত্রার ঝাঁকুনিও সহজে টের পান না।
শারীরিক কারণ ছাড়াও ব্যক্তির অবস্থান এখানে বড় ভূমিকা রাখে। যারা বহুতল ভবনের উপরের তলায় থাকেন, তারা নিচের তলার মানুষের চেয়ে কম্পন অনেক বেশি অনুভব করেন। আবার ভূমিকম্পের মুহূর্তে যারা হাঁটাহাঁটি, রান্না বা কোনো কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাদের তুলনায় স্থির বা চুপচাপ বসে থাকা মানুষরা কম্পন দ্রুত ধরতে পারেন। এমনকি ঘুমের ঘোরে বা বিশ্রামের সময় মানুষের মস্তিষ্ক কম ফোকাসড থাকায় অনেকেই মৃদু ঝাঁকুনি বুঝতে পারেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পার্থক্যের বিষয়টি কেবল কৌতূহল মেটানোর জন্য নয় বরং জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা ভূমিকম্প সহজে টের পান না, তারা দুর্যোগের মুহূর্তে সঠিক সময়ে নিরাপদ আশ্রয় নিতে বিলম্ব করতে পারেন, যা জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
উল্লেখ্য, সোমবার রাত ৯টা ২৮ মিনিটে অনুভূত হওয়া এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার আগারগাঁও থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার পূর্বে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪।
ভিজুয়াল স্টোরি