
নিহত মৃদুল খান/ ছবি: সংগৃহীত
অভাবের সংসারে একটু সুদিন ফেরাতে, জীবনের চাকা ঘোরানোর স্বপ্ন নিয়ে সুদূর রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর তরুণ মৃদুল খান (২৩)। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না তাঁর।
রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান রণাঙ্গনে মাইন বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। নিহত মৃদুল খান টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কোকড়হরা ইউনিয়নের পাছচারান গ্রামের সাঈদ খানের সন্তান। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। ছেলেকে হারিয়ে এখন বাকরুদ্ধ পুরো পরিবার; স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পাছচারান গ্রামের বাতাস।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উন্নত জীবনের আশায় বাড়ি ছাড়েন মৃদুল। অনেক চেষ্টা করেও ইউরোপের ভিসা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ‘হক এজেন্সি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাশিয়ায় যান তিনি। পরিবারের অভিযোগ, শুরুতে সেখানে সাধারণ কাজের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তীতে বিশেষ পরিস্থিতিতে তাকে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়।
রণাঙ্গনে মাইন বিস্ফোরণে মৃদুলের মৃত্যুর পর প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে রাশিয়ায় অবস্থানরত কালিহাতী উপজেলারই আরেক প্রবাসীর মাধ্যমে হতভাগ্য এই তরুণের মৃত্যুর খবর পৌঁছায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে।
ছেলের এমন করুণ পরিণতিতে ভেঙে পড়েছেন বাবা সাঈদ খান। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলের মধ্যে মৃদুল বড়। ভালো ভবিষ্যতের আশায়, আমাদের সুখের মুখ দেখাবে বলে সে রাশিয়া গিয়েছিল। এখন শুনছি যুদ্ধের মাঠে আমার বাছা মরে পড়ে আছে, মরদেহটাও দেশে আনা যাচ্ছে না। আমরা সরকারের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করছি, আমার ছেলের লাশটা যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। আর যারা তাকে এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল, আমি তাদের বিচার চাই।’
মৃদুলের এই অকাল মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুরো গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয় সন্তানকে হারানো বাবা-মায়ের আহাজারি সইতে পারছেন না প্রতিবেশীরাও। সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়েছেন স্বজনেরা।
কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম সিদ্দিক খান জানান, রাশিয়ায় কালিহাতীর মৃদুল খানের মৃত্যুর বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। এই কঠিন সময়ে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে যেকোনো ধরণের আইনি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।