
ফাইল ছবি
অনলাইন জুয়া, বেটিং ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যুগোপযোগী শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সোমবার সভাপতিমণ্ডলির সদস্য জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে জুয়ার বিস্তার দ্রুত বাড়ছে, যা বিদ্যমান ঔপনিবেশিক যুগের ‘পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা আর সম্ভব নয়।
নতুন খসড়ায় ডিজিটাল জুয়া প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন বেটিং, ওয়েজারিং, পেশাদার বুকমেকিং, টোটালাইজেটর এবং ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংসহ বিভিন্ন আধুনিক অপরাধের সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি জুয়া আয়োজন, পরিচালনা, প্রচার, সহায়তা বা প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের মতে, অনলাইন জুয়ার বিস্তার জনশৃঙ্খলা, আর্থিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ প্ল্যাটফর্ম বিদেশভিত্তিক হওয়ায় এবং ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা জটিল হয়ে উঠেছে।
খসড়ায় ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংকে পৃথকভাবে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এতে খেলাধুলার স্বচ্ছতা রক্ষা এবং অবৈধ বেটিং চক্রের প্রভাব কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এসব অপরাধ শুধু সামাজিক নয়, বরং সাইবার নিরাপত্তা ও আর্থিক অপরাধের সঙ্গেও জড়িত। কিছু প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ ও অর্থপাচারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিলটি পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো জুয়া-সংক্রান্ত আইন সংস্কার করে নতুন ডিজিটাল যুগোপযোগী কাঠামো চালু হবে।