
সংগৃহীত ছবি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়ম, একাডেমিক দায়িত্ববহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাকে একাডেমিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একইসঙ্গে অভিযোগগুলো তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলা বিভাগের সূত্র জানায়, গত মে মাসে বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও তার জবাব সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হয়নি।
বিভাগের শিক্ষকরা জানান, এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের কাছ থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে অর্থ দাবি ও গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের বই বা পত্রিকা কিনতে চাপ দেওয়া এবং মূল্যায়নে বৈষম্যের অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু পোস্ট ও ভিডিও নিয়েও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া মেলেনি।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে বিভিন্ন জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিব। তার গান যেমন প্রশংসা পেয়েছে, তেমনি ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার কারণে সমালোচনারও মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।