
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ইতালি, জার্মানি ও বেলজিয়ামসহ একাধিক দেশে তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড গড়ছে। চরম গরমের কারণে হাজারো স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও দেখা দিয়েছে সংকট। এ পরিস্থিতিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, দেশটির প্রায় ৬ হাজার স্কুল হয় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, নয়তো পাঠদান ও পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তীব্র গরমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। দেশটির বহু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। অতিরিক্ত গরমে নদীর পানির তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি কেন্দ্রের উৎপাদন সীমিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র নদীর পানি ব্যবহার করে শীতলীকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
যুক্তরাজ্যেও গরমের মাত্রা যেকোনো সময়কে ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে, বিশেষ করে লন্ডন এলাকায়, তাপমাত্রার পাশাপাশি আর্দ্রতাও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্তমানে লন্ডনের আবহাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি, নিউ অরলিন্স ও হিউস্টন শহরের মতো উষ্ণ ও আর্দ্র অনুভূত হচ্ছে।
বুধবার ইংল্যান্ডের উইগনহল্ট এলাকায় তাপমাত্রা ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড গড়েছে।
স্পেনেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা এএমইটি জানিয়েছে, সোমবার ও মঙ্গলবার ছিল অন্তত ১৯৫০ সালের পর থেকে সবচেয়ে উষ্ণ জুনের দিন। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছিল এবং অনেক এলাকায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। কর্তৃপক্ষ উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করেছে।
ইতালির ১৬টি বড় শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেলজিয়াম ও ফ্রান্সে অতিরিক্ত গরমে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। অনেক স্থানে কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে এবং নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাহারা মরুভূমি থেকে উঠে আসা উষ্ণ বায়ু এবং একটি শক্তিশালী ‘হিট ডোম’ বা তাপগম্বুজের কারণে পশ্চিম ইউরোপে এই চরম আবহাওয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশগুলোর একটি, যেখানে তাপমাত্রা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে বাড়ছে।
ডব্লিউএইচও সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের তাপপ্রবাহ শুধু অস্বস্তিকর নয়, বরং প্রাণঘাতীও হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। সংস্থাটি সরকারগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং চরম আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।