
নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আজ দুপুরে রাষ্ট্রপ্রধান মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তাঁর আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র হস্তান্তর করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বঙ্গভবনে এই পরিচয়পত্র পেশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নতুন হাইকমিশনার বঙ্গভবনে এসে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল তাঁকে ঐতিহ্যবাহী গার্ড অব অনার প্রদান করে।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি ও নতুন হাইকমিশনারের মধ্যে এক সৌজন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম গণমাধ্যমকে জানান, নতুন হাইকমিশনারকে বঙ্গভবনে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধান।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, দীনেশ ত্রিবেদীর দায়িত্ব পালনকালে দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরালো, ফলপ্রসূ এবং জনগণের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের বিষয়টি স্মরণ করেন। ওই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন পেয়ে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়। সেই সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের কথা রাষ্ট্রপ্রধান অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সাথে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং অন্যতম প্রধান বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভারতের সাথে বিদ্যমান সম্পর্ককে বাংলাদেশ সবসময়ই বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা বজায় রাখার পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করে একটি সম্মানজনক ও দূরদর্শী অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জবাবে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করে বলেন, দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে এমন চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকাটাই অত্যন্ত স্বাভাবিক।
সৌজন্য আলাপকালে রাষ্ট্রপতি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সীমান্ত সমস্যাসহ সব ধরনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে হাইকমিশনার জানান, সম্প্রতি বিজিবি এবং বিএসএফ-এর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সীমান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসনের আশা প্রকাশ করে তিনি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর স্থানীয় ও উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকগুলো আরও নিয়মিত করার ওপর তাগিদ দেন।
সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার তাঁর দেশের রাষ্ট্রপতি ও শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে শুভেচ্ছা জানান। সেই সাথে বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ভারতের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতিও হাইকমিশনারের মাধ্যমে ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রতি তাঁর আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।
বাংলাদেশে নিজের কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি এবং এ দেশের জনগণের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন দীনেশ ত্রিবেদী। রাষ্ট্রপতি তাঁর সফল কর্মকাল কামনা করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এই উচ্চপর্যায়ের প্রটোকল অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবগণসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।