চ্যাম্পিয়নস ট্রফির চলতি আসরের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ। চতুর্থ সেমিফাইনালিস্ট নির্ধারণের ম্যাচ। মুখোমুখি পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা। সোমবার কার্ডিফে টস হেরে শ্রীলঙ্কা প্রথমে ব্যাট করতে নামে।
আগের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে অসাধারণ খেলা লঙ্কানরা আজ পুড়ল পাকিস্তানের পেস আক্রমণে। তারপরও ধুকে ধুকে ২৩৬ রান সংগ্রহ করে তারা। জয়ের জন্য এই রান খুব বড় টার্গেট না হলেও আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তান সেটাকে এক সময় পাহাড়সম করে তোলে।
কিন্তু অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের ব্যাটে ভর করে শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটের জয় পেয়েছে পাকিস্তান। পাশাপাশি নিশ্চিত করেছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালও। সেইসাথে টুর্নামেট থেকে বিদায় নিলো শ্রীলঙ্কা। সেমিফাইনালে পাকিস্তান লড়বে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আর বাংলাদেশ লড়বে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে।
পাকিস্তানকে সেমিফাইনালে তুলতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। ১৬২ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর মোহাম্মদ আমিরকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ৭৯ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন সরফরাজ। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া মোহাম্মদ আমির ৪৩ বলে ১টি চারের সাহায্যে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন।
তার আগে ফখর জামান ৫০ ও আজহার আলী ৩৪ রান করে দলের জয়ের ভিত গড়ে দিয়ে যান। তারা দুজন আউট হওয়ার পর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। কিন্তু আইসিসির কোনো আসরে পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম কোনো অধিনায়ক হিসেবে অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংস খেলে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন সরফরাজ। ম্যাচসেরাও হন তিনি।
তার আগে পাকিস্তানের চার পেসার জুনায়েদ খান (৩টি), হাসান আলী (৩টি), মোহাম্মদ আমির (২টি) ও ফাহিম আশরাফ (২টি) শ্রীলঙ্কার ১০টি উইকেট নেন। তাতে ৪৯.২ ওভারে ২৩৬ রানে অলআউট হয়ে যায় লঙ্কানরা।
ব্যাট হাতে শ্রীলঙ্কার হয়ে একাই লড়াই করেছিলেন নিরোশান ডিকভেলা। তিনি ৭৩ রান করেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস।