কলম প্রেমিক মিজানের গল্প

penহাটি-হাটি পা-পা করে, একটি- দুইটি থেকে আজ এক বিশাল কলম সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন নীলফামারী মিজান। তবুও তার তৃষ্ণা মিটছে না। আরো অনেক অনেক কলম চাই তার। বিভিন্ন নামের, বিভিন্ন আকৃতির, বিভিন্ন দেশের এবং সেই সাথে ব্যাতিক্রমি কলম দিয়ে সে সংগ্রহশালা সমৃদ্ধ করতে বদ্ধ পরিকর।

বর্তমানে ১৩টি দেশের প্রায় ৭৩০ ধরনের কলমের এক বিশাল সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন কলম প্রেমিক মিজান। কলম কিভাবে ম্যানেজ করেন এমন প্রশ্নের জবাবে মিজান বলেন, দোকানদারকে বুঝিয়ে বলে কম কিংবা বেশী দাম দিয়ে কলমগুলো সংগ্রহ করে থাকি।

কেন আপনার মধ্যে কলম সংগ্রহের আগ্রহ জেগে উঠলো ? এ প্রশ্নের জবাবে কলম সংগ্রহকারী মিজানুর রহমান বলেন, কৌতুহল বসত প্রথমে আমি বিভিন্ন ধরনের কলম সংগ্রহ করতে থাকি। কিন্তু পরবর্তীতে এই কলম সংগ্রহ নেশায় পরিণত হয়। আমি প্রথম দিকে যখন কলম সংগ্রহ করতাম তখন হয়ত এর মর্মকথা বুঝতে না পারলেও আজ আমার হৃদয়ে কলম সংগ্রহ একটা তাড়নায় রুপ নিয়েছে। ইচ্ছে করলেও এখন আর কলম সংগ্রহ থেকে বিরত থাকতে পারি না। কোথাও কোন নতুন ধরনের কলমের খোঁজ পেলেই ছুটে যাই আমার সংগ্রহশালায় আর একটি নতুন কলম যোগ করার আশায়। হাট বাজারে নতুন কোন ধরনের কলম চোখে পড়লে যেভাবেই হোক ঐ কলম আমার সংগ্রহশালায় আসতেই হবে।

mizan
কলম প্রেমিক মিজান

কলম সংগ্রহের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ছোট বেলায় প্রথম চক দিয়েই লেখা শিখেছি। যখন কলম দিয়ে লিখতে শিখি। আমার যতদুর মনে পড়ে আমার আব্বুই প্রথম আমাকে কলম কিনে দিয়েছিলেন। প্রথমত কলম ক্রয়, উপহার কিংবা অন্যের কাছে থেকে বিনিময় করে কলম সংগ্রহ করি। সেই থেকে আমাকে কলম সংগ্রহ নেশা ধরে বসে। আমার সহধমিনী শারমিন আক্তার (শিমু), আব্বু-আম্মু ও ছোট্ট ভাই আরিফ আমাকে কলম সংগ্রহে উৎসাহিত করেন।

সংগ্রহ শালায় আপনার কি কি ধরনের কলম আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ধরনের কলম আছে। বিভিন্ন রঙের, বিভিন্ন আকৃতির।

প্রায় ৭৩০টি কলমের মধ্যে আমার কাছে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী কলম আছে যেমন-লাইটার কলম, ভূট্টা কলম, ব্যাট কলম, ভিডিও কলম, গ্যাস ভরিয়ে আগুন জ্বালানো ও লেখা যায় এমন কলম আছে। ছোট হারিকেনের মধ্যে কলম। আমার কাছে আছে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী কলম যা ডেন মার্কের তৈরী। ক্যালেন্ডার সম্বলিত কলম, ফুলের তোরা সজ্জিত কলম, এ ছাড়াও বিচিত্র আকারের কলমও আমার কাছে আছে। সবচেয়ে ছোট্ট কলম আছে লম্বায় ০৫ সে.মি। সবচেয়ে বড় কলম ৬৫ সে.মি। আমি সর্বনিম্ন ২ টাকায় এবং সর্বোচ্চ ৩,৮০০ টাকায় কলম ক্রয় করেছি। কেউ আবার আমার কলম সংগ্রহের খবর পেয়ে তাদের কাছে থাকা ভিন্ন প্রকৃতির কলম আমার সংগ্রহশালায় উপহার দেন।

sentbe BT

এ সময় আমি প্রচন্ড খুশি হই। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এবং দেশের মধ্যে তৈরী ব্যতিক্রমী কলমগুলি আমার সংগ্রহে বেশী আছে। এর একটা উদ্দেশ্যেও আছে। কারন আমি চাই, কালের পরিবর্তনে বেশ কিছু কলম এখনই হারিয়ে যেতে বসেছে। ভবিষৎ প্রজন্মের প্রজন্মরা হারিয়ে যাওয়া এসব কলম অনেকে কলম চিনতে পারবে না। তারা ঐসব কলমের নাম শুনলে হাসবে অথবা বলবে এটা দিয়ে কিভাবে লেখা যায় ? যেমন দোয়াদ-কলম। কালি নিয়ে নিয়ে লিখতে হত। এখন বিলুপ্ত প্রায়। সে কলম গুলো এখন আমার সংগ্রহে আছে।

এ রকম নানা ধরনের কলম আছে যেগুলি এখন আর দেখা যায় না। এসব কলম আমি সংগ্রহ করেছি ভবিষৎ প্রজন্মের জন্য। এ জন্য আমার সর্বশেষ ইচ্ছা এসব কলম ভবিষৎতে আমি ঢাকা কিংবা উত্তরবঙ্গের কোন এক যাদুঘরে দান করে দিবো (কোন রকম শর্ত ছাড়াই)। যাতে করে ভবিষৎতের প্রজন্মরা দেখতে পায় তাদের পূর্ব পূরুষেরা কিংবা তাদের ছেলে-মেয়েরা কি ধরনের কলম ব্যবহার করতো। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, গুণীজনদের অটোগ্রাফ ও ছবি সংগ্রহ করার প্রবল ইচ্ছা আছে আমার ।

এ সময় তিনি যে সব ব্যক্তি বিভিন্ন কলম দিয়ে সহযোগীতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্মরণ করেন তার বাবা-মা, আত্বীয়স্বজন, পরিচিতিজন, বন্ধু-বান্ধবীসহ অনেককেই। তিনি বলেন,আমার কলম সংগ্রহশালা দেখতে এখন অনেকে ভীর করছে আমার স্থায়ী ঠিকানায়, যেখানে আমি হা-টি পা-পা করে বড় হয়েছি।

মোঃ মিজানুর রহমান (মিজান) নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের নিজপাড়ার (বাহারপাড়া) অবসর প্রাপ্ত চাকুরীজীবি মোঃ আব্দুল মজিদ এর জৈষ্ঠ্য পুত্র। তিনি উপজেলার ডিমলা রানী বৃন্দা রানী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অর্নাসসহ মার্স্টাস ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত রয়েছেন।

তিনি দেশের সকল মানুষের কাছে আবেদন করেছেন, কারো কাছে যদি কোন ধরনের নতুন কোন কলম থাকে তাহলে তারা যদি এই কলম সংগ্রহশালায় উপহার কিংবা অর্থের বিনিময় দিতে চান তাহলে মিজানের স্থায়ী ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন। যে কোন সাহায্যে সহযোগীতা বা কলম সম্পর্কে যে কোন পরামর্শ সাদরে গ্রহন করা হবে বলে জানান কলম সংগ্রহকারী মিজানুর রহমান মিজান। যোগাযোগ: (মোবাইল-০১৭৪০-৯৬ ৯৬ ২২)।