তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠকের অভিযোগ

tuhin-afrosh 2মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার এক আসামির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের সংক্রান্ত অভিযোগের নথি আইন মন্ত্রণালয় পেয়েছে। এটি পর্যালোচনা করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, ‘অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। এটি আমরা পর্যালোচনা করব, আইনি প্রক্রিয়ায় দেখব। আইন যেটা বলে দেয়, সেভাবেই আমরা এটাকে দেখব। এটার ব্যাপারে এর থেকে বেশি আমার কিছু বলার নেই।’

এদিকে বুধবার নিজ কার্যালয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ যদি সত্য হয় তাহলে আইন মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে।

মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমি তো আর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের যাই না বা তাদের মামলাও পরিচালনা করি না। এ ব্যাপারে আমার পক্ষে বলা সম্ভব না।’

‘প্রসিকিউশন টিম ঢেলে সাজানোর কথা আমি সবসময় বলি। আইনজীবীদের দক্ষতা প্রতিদিনই পরীক্ষার ব্যাপার। আমাকেও প্রতিদিন পরীক্ষা দিতে হয়। কোনো একটি মামলায় ভালো আর্গুমেন্ট করতে পারলাম কি-না এসব বিষয়ে-’ বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে করা মামলাটি পরিচালনার দায়িত্ব গত বছরের গত ১১ নভেম্বর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে দেয়া হয় ।

এরপর ওয়াহিদুল হককে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎ করতে চান তুরিন আফরোজ। তাকে যে কোনো দিন আটক করা হতে পারে বলেও তিনি কথোপকথনে জানান। প্রথমে ওয়াহিদুল হকের গুলশানের বাসায় তাদের সাক্ষাৎ হবে বলে জানানো হয়। পরে সাক্ষাতের স্থান পরিবর্তন করা হয়। তারা গুলশানে অলিভ গার্ডেন নামের একটি রেস্টুরেন্টে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা প্রায় তিন ঘণ্টা মামলার নথিপত্র নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ এবং তাকে গ্রেফতারের আদেশের অনুলিপি নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয় ওয়াহিদুল হককে। পরদিন ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠান।