sentbe-top

পছন্দের শিক্ষক নিয়োগ দিতে ম্যানেজিং কমিটির যত আয়োজন

teacherসিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটী ইউনিয়নের হরিনা বাগবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাউকে কিছু না জানিয়েই মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রধান শিক্ষককে নিয়োগ দিয়েছে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বাগবাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। এমনকি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে কিছুই জানেন না বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরাও।

জানা যায়, বিদ্যালয় থেকে গত ৩০ ডিসেম্বর চাকরীজীবন শেষ করে অবসরে যান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: নুরুল ইসলাম। ওইদিন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পান বিদ্যালয়েরই শিক্ষক মো: আব্দুস সালাম। বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মো: শহিদুল ইসলাম মোটা অংকের টাকা দিয়ে ২০ জানুয়ারি বিদ্যালয়ের অন্য কোন সদস্য কিংবা শিক্ষককে কিছু না জানিয়েই প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য দুইটি পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। যে পত্রিকা সিরাজগঞ্জে পাওয়া যায়নি। এবং ওই পদে তিনি নিজেই আবেদন করেন।

এরপর ৪ মার্চ গোপনীয়ভাবেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রবেশপত্র পান ১০ পরিক্ষার্থী। শুক্রবার ৮ মার্চ পরিকল্পিতভাবেই নেওয়া হয় লিখিত ও ভাইবা পরীক্ষা। শুক্রবার সকাল ১০টায় নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরু হয়। কত নাম্বারের পরীক্ষা তা প্রশ্নপত্রে উল্লেখ ছিলো না। পরীক্ষা চলাকালে সভাপতির সাথে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কথাকাটাকাটি হয়। নিয়োগ পরীক্ষায় অর্থ বাণিজ্য হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে তারা পরীক্ষা বন্ধের দাবি জানান। প্রধান শিক্ষক পদে ১১ জন প্রার্থী আবেদন করেন। এর মধ্যে একজনের কাগজপত্র ভুল থাকার অভিযোগে তার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়। ১০ জনের মধ্যে ৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা চলাকালে খুদিরাম কুমার সাহা নামে এক প্রার্থীর খাতা কেড়ে নিয়ে তাকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ করা হয়।

এদিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। যথারীতি প্রধান শিক্ষক হিসাবে বিদ্যালয়ে যোগদান করবেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: শহিদুল ইসলাম। তার নিয়োগের ব্যাপারে কোন কিছুই জানেন না বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যসহ বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। ম্যানেজিং কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে বাদ রেখে গোপনে এই নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির দাতা সদস্য আলী হোসেন মল্লিক জানান, শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে কোন আলোচনা বা মিটিংই বিদ্যালয়ে হয়নি। আমাকে একদিন বলেছিলো বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হবে আপনাকে স্বাক্ষর করতে হবে। আমি সেখানে স্বাক্ষর করিনি। এখন দেখছি দুর্নীতিবাজ একজন শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিলেন ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম।

আরেকজন ম্যানিজিং কমিটির সদস্য মো: ফরিদুল ইসলাম জানান, আমাকে সভাপতি বললো সই করতে, আমি সই করিনি কিসের সই করতে হবে তিনি তা জানাননি। এছাড়া আমি কিছু জানি না।

অভিযুক্ত সহকারি প্রধান শিক্ষক মো: শহিদুল ইসলাম জানান, নিয়োগের ব্যপারে আমি কিছুই জানিনা। সব সভাপতি জানে। তবে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম আমি। আর আমি পরীক্ষার মাধ্যমে স্বচ্ছভাবেই নিয়োগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ সকল কাজ নিয়ম অনুযায়ীই হয়েছে। এখানে কোন দুর্নীতি আর অনিয়ম হয়নি। আর রেজুলেশন খাতা বিদ্যালয়ে নেই সেটা আমার কাছেই থাকে। আর সহকারি প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বেশি নম্বর পেয়েছিল তাই সে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মো: শফিউল্লাহ্ জানান, এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

sentbe-top