Search
Close this search box.
Search
Close this search box.

ক্রস-ফায়ার মোড়

cross-fire-circle

একপাশে ধানক্ষেত। অন্য তিন পাশে নিরব বাঁশ বাগান। আছে অন্য সব গাছ-গাছালির ছায়া। চারদিকে প্রায় কিলোমিটার খানেকের মধ্যে নেই কোন মানুষের ঘরবসতি। অতি মনোরম ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ। দিন-দুপুরেও সুনশান নীরবতা চারদিকে।

শুধু মাঝে মাঝে গ্রামীণ পথবন্ধু অবৈধ নছিমন-করিমন যানের যাত্রী নিয়ে ছুটে চলার দৃশ্যকল্প। দেখা মেলে ইঁদুরের বংশ নির্বংশ করার ঔষধ বিক্রেতার অটোরিকশাও।

উপজেলা সদর থেকে পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়ন হয়ে ফৈলজানা ইউনিয়নের (এক সময়ে চরমপন্থী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত) জগন্নাথপুর, বালুদিয়ার, ঝবঝবিয়া হয়ে শরৎগঞ্জ পুলিশ তদন্তকেন্দ্র (পিআইসি) পর্যন্ত মসৃণ নতুন পিচ-পাথরের কার্পেটিং সড়ক। সেই পথের জগন্নাথপুর এলাকায় মধ্যে সড়কের এক ত্রিমোহনী। তিন সড়কের মাঝখানে ট্রাফিক পুলিশের মতো দাঁড়িয়ে আছে একটি বটবৃক্ষ। তার শরীরে আর সব এলাকার মতোই নেতাদের রঙিন বিলবোর্ড-পোস্টার ঝুলানো আছে লোহা বা পেরেক বিদ্ধ করে।

এতক্ষণ যে বর্ণনা দেয়া হচ্ছিলো সেটা পাবনার চাটমোহর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকার একটি স্থানের নাম। যেটা ক্রস-ফায়ার মোড় নামে পরিচিত।

chardike-ad

স্থানীয়রা জানালেন, আসলে জায়গাটার নাম ‘কুঠিপাড়া মোড়’। তিন/চার বছর আগে এখানে জালাল উদ্দিন ও ইজিবর রহমান নামের দুজন ক্রসফায়ারে নিহত হন। সাম্প্রতিক সময়েও সেখানে বেশ কয়েকটি ক্রস ফায়ারের ঘটনা ঘটে। তারপর থেকেই জায়গাটির নাম হয়ে যায় ‘ক্রস ফায়ার মোড়’।

স্থানীয়রা আরো জানান, এলাকাবাসীরাই এখন আর কুঠিপাড়া নামটি কেউই বলেন না। তাই মুছে গেছে আদি নামটি। এখন সবার মুখেই নতুন নাম ‘ক্রস ফায়ার মোড়’।