sentbe-top

সময় হওয়া মাত্র ইফতার করা নবী চরিত্রের অংশ

iftar-bg20160610203818সূর্য অস্ত যাওয়া মাত্রই ইফতার করা সুন্নত। অতি সাবধানতার নামে ইফতারে বিলম্ব করবে না। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মানুষ যতদিন পর্যন্ত তাড়াতাড়ি ইফতার করবে, ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে।’ –সহিহ বোখারি, হাদিস: ১৯৫৭, সহিহ মুসলিম হাদিস: ১০৯৮

অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘যতদিন মানুষ তাড়াতাড়ি ইফতার করবে ততদিন দ্বীন ইসলাম বিজয়ী থাকবে। কেননা, ইহুদি ও নাসারাদের অভ্যাস হলো দেরিতে ইফতার করা।’ –সুনানে আবু দাঊদ, হাদিস: ২৩৫৩

আরেক হাদিসে এসেছে, ‘তিনটি বিষয় নবী চরিত্রের অংশ। সময় হওয়া মাত্র ইফতার করা, সাহরি শেষ ওয়াক্তে খাওয়া এবং নামাজে ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখা।’ -তাবারানি, মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদিস: ২৬১১

হজরত আমর ইবনে মাইমুন (রহ.) বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবিগণ সকলের আগে তাড়াতাড়ি ইফতার করতেন এবং সকলের চেয়ে দেরিতে সাহরি খেতেন। -মুসান্নাফে আবদুর রাজাজাক, হাদিস: ৭৫৯১

ইফতারের সময় দোয়া করা
ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়ে থাকে। হরজত রাসূলুল্লাহ (সা.)  বলেন, ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া কখনও ফেরতযোগ্য হয় না, অর্থাৎ অবশ্যই কবুল হয়ে থাকে। -আমলুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলা, ইবনুস সুন্নি, হাদিস: ৪৮১

ইফতারের মুহূর্তটি জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়ার সময়। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ইফতারের সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। আর এ মুক্তি দানের পালা রমজানের প্রতি রাতেই চলতে থাকে। সে সময় রোজাদার প্রত্যেক বান্দার দোয়া কবুল হয়।’ -মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২২২০২

ইফতারের দোয়া
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন-

اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তোমার জন্য রোজা রেখেছি, আর তোমারই রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।’ –সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৩৫৮

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইফতারের সময় নিম্নের দোয়াটিও পাঠ করতেন-

ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ، وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللهُ

উচ্চারণ: যাহাবায জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু, ওয়া ছাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।

অর্থ: ‘পিপাসা নিবারিত হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহর ইচ্ছায় পুরষ্কারও নির্ধারিত হলো।’ –সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৩৫৭

খেজুর বা পানি দ্বারা ইফতার করা
হজরত আনাস (রা.) বলেন, হরজত রাসূলুল্লাহ (সা.) (মাগরিবের) সালাতের পূর্বে তাজা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর পাওয়া না যেত তবে শুকনো খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। আর যদি শুকনা খেজুর পাওয়া না যেত তাহলে কয়েক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করতেন। -মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১২৬৭৬

তবে পেট ভর্তি করে খাওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। হরজত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পেট ভর্তি করে খানা খায়, তার ওই পেট (আল্লাহর কাছে) একটি নিকৃষ্ট পাত্র।’ -সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৮০

সুন্নত হলো, পেটের তিন ভাগের একভাগ খাবার খাবে, আর তিন ভাগের একভাগ পানি পান করবে। বাকী এক তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রেখে দেবে। -সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৮০

ইফতারের মাসয়ালা
ইফতারের সময় হয়ে গেছে এ ধারণা করে কেউ ইফতার করার পর জানতে পারল যে, তখনও সূর্যাস্ত হয়নি তাহলে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে। সে ওই রোজা কাজা করে নিবে। -বাদয়েউস সানায়ে: ২/১০০

রমজান মাসে রোজা অবস্থায় যদি কোনো ব্যক্তি বিমানে সফর করে। আর বিমানটি যে দেশের ওপর দিয়ে অতিক্রম করছে সে দেশের সময় অনুযায়ী সেখানে ইফতারের সময় হয়ে যায়, কিন্তু ওপর থেকে বিমানের জানালা দিয়ে এখনও সূর্য দেখা যাচ্ছে, এমতাবস্থায় বিমান থেকে সূর্য দেখা যাওয়া পর্যন্ত ইফতার করা বা মাগরিবের নামাজ পড়া জায়েয হবে না। তবে যদি ২৪ ঘন্টার মধ্যে সূর্যাস্ত না হয় তাহলে ২৪ ঘন্টা পূর্ণ হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে ইফতার করে নিবে। -রদ্দুল মুহতার: ২/৪২০

sentbe-top