sentbe-top

বাংলাদেশ কোরিয়া যৌথ উদ্যেগে সিনেমা নির্মাণ করতে চান মাহবুব

সিউল, ২ আগষ্ট ২০১৩:

মাহবুব আলম। একজন অভিনেতা, নির্মাতা, সংগঠক। বান্ধবী মুভির জন্য সবার কাছে পরিচিত। কোরিয়ার মিডিয়াতে অভিনয় এবং সংগঠক হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। তবে তার পথচলা এত সহজ ছিলনা। কোরিয়া আসার পর তিন বছর দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করেছেন। পরবর্তীতে বিদেশী শ্রমিকদের জন্য আন্দোলন করেছেন।

কোরিয়া আসার আগে বাংলাদেশ থেকে স্নাতক শেষ করেন মাহবুব আলম। কোরিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিট অব আর্টস থেকে নিয়েছেন প্রশিক্ষণ এবং কাজ করেছেন মাল্টিমিডিয়ার উপর। বিভিন্ন ভাষাভাষীদের নিয়ে টিভি প্রোগ্রামের উপর গবেষক হিসেবেও কাজ করেছেন কোরিয়ার বিখ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়া শিল্প ও সংস্কৃতির উপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন কোরিয়া আর্টস এন্ড কালচারাল এডুকেশন সার্ভিস থেকে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গত বছর কোরিয়ার সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে পেয়েছেন সেজং অ্যাওয়ার্ড।

আগামী ৮ আগষ্ট মুক্তি পাবে মাহবুব আলম অভিনীত ডকুমেন্টারী ফিল্ম ‘লাভ ইন কোরিয়া’। কোরিয়ার অভিনয় জীবন, নতুন মুভি লাভ ইন কোরিয়া, নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বাংলা টেলিগ্রাফের কাছে মাহবুব আলমের দেওয়া সাক্ষাতকার তুলে ধরা হল।

small_IMG_0723বাংলা টেলিগ্রাফঃ কোরিয়া্য এসেছেন কবে?
মাহবুব আলমঃ আমি ১৯৯৯ সালে প্রথম কোরিয়া আসি।

বাংলা টেলিগ্রাফঃ অনেক অপেক্ষার পর লাভ ইন কোরিয়ার মুক্তিতে কেমন লাগছে?
মাহবুব আলমঃ লাভ ইন কোরিয়া একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ধারার ডকুমেন্টারি মুভি, বাস্তব ঘটনার উপর এটা নির্মাণ করা হয়েছে দীর্ঘ ৩ বছর আগে। আর্থিক সমস্যা, আদম ব্যবসায়ীর চাপ ইত্যাদি কারণে ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে দেখানো সম্ভব হয়নি, তবে এবার খিয়ংগিদো ফিল্ম কাউন্সিলের সহায়তায় মেগাবক্স সহ ৮টি সিনেমা হলে দেখানো হবে। আশা করি এই ছবিটির মাধ্যমে কোরিয়ানরা অভিবাসীদের সম্পর্কে আরও ভাল ধারণা লাভ করবে।

বাংলা টেলিগ্রাফঃ আপনার কততম মুভি? এর আগে কোন কোন মুভিতে অভিনয় করেছেন?
মাহবুব আলমঃ এটা আমার অভিনীত দশম মুভি। এর আগে অভিনয় করা মুভি গুলো হল রুড অব দ্যা রিভেঞ্জ, চাইনিজ উইন্টার, চুকুমল সুলফুহামেন, মাই ফ্রেন্ড এন্ড হিজ ওয়াইফ, বান্ধবি, হোয়াইর ইজ রনি, দ্য পেইন, সিটি ওব কড়েইন, ইউ আর মাই ভ্যাম্পায়ার।

বাংলা টেলিগ্রাফঃ আপনার নিজের তৈরী মুভির সংখ্যা কত?
মাহবুব আলমঃ আমি ছোট বড় সব মিলিয়ে ৮ টি ফিল্ম তৈরী করেছি।

বাংলা টেলিগ্রাফঃ এখন অভিনয় ও পরিচালনা ছাড়া আর কি করছেন?
মাহবুব আলমঃ ২০১১ সালে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিল্পী, কলাকূশলীদের নিয়ে এশিয়া মিডিয়া কালচার ফ্যাক্টরী নামের একটি সংগঠন করেছি।

বাংলা টেলিগ্রাফঃ এশিয়া মিডিয়া কালচার ফ্যাক্টরীর মাধ্যমে মূলত কি কাজ করছেন?
মাহবুব আলমঃ এক কথায় বলতে গেলে অভিবাসীদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য কোরিয়ান সমাজে তুলে ধরা। আমাদের কার্যক্রমের মধ্যে অভিবাসী আর্ট এন্ড কালচার সেন্টার (ফ্রীপোর্ট) পরিচালনা, সিউল মাইগ্র্যান্ট আর্ট ফেস্টিভাল পরিচালনা, নাটক ও মুভি নির্মাণ, নৃত্য, সংগীত ওয়ার্কশপ প্রভৃতি।

1001899_10201677993697471_127936639_nবাংলা টেলিগ্রাফঃ আপনাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
মাহবুব আলমঃ বাংলাদেশসহ এশীয় দেশগুলোর সাংস্কৃতিক বৈচিত্রতা নিয়ে আমরা কাজ করে যেতে চাই। কোরিয়ার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দলকে সহায়তা এবং অভিবাসীদের সাংস্কৃতিক জগতে নিয়ে আসতে সহায়তা প্রদান করা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মধ্যমে কোরিয়ানদেরকে অভিবাসীদের সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়াসহ সাংস্কৃতিক জগতের কাজগুলোই মূলত আমরা করে যেতে চাই। একজন বাংলাদেশী হিসেবে বাংলাদেশের সংস্কৃতিও আমরা কোরিয়ানদের সামনে তুলে ধরতে চাই। এর অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরে বিজয় দিবস নিয়ে একটি বড় পরিসরে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা আছে।

বাংলা টেলিগ্রাফঃ কোরিয়াতে বাংলা মুভি নিয়ে কি কোন পরিকল্পনা আছে?
মাহবুব আলমঃ ইতিমধ্যে আমি বান্ধবি নামের কোরিয়ান সিনেমাতে অভিনয় করেছি, সিনেমাটি বাংলাদেশে প্রদর্শনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া লাভ ইন কোরিয়াও প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশ ও কোরিয়ার যৌথ উদ্যেগে মুভি করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর বাংলাদেশের অভিনেতা বন্ধু নীরবও একসাথে কাজ করার আগ্রহ জানিয়েছেন। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে বাংলাদেশ-কোরিয়া যৌথ উদ্যাগে সিনেমা নির্মাণ করার। সুযোগ পেলে অবশ্যই করব ইনশাল্লাহ।  

বাংলা টেলিগ্রাফঃ পাঠকদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলেন…
মাহবুব আলমঃ পাঠকদের উৎসাহ ও দোয়ায় আমার পথচলা। আশা করি ভবিষ্যতেও পাঠকরা উৎসাহিত করে যাবেন। সবাইকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা রইল। ঈদের সময় লাভ ইন কোরিয়া মুক্তি পাচ্ছে, আশা করি সময় পেলে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে দেখতে যাবেন। সবাইকে ধন্যবাদ।

বাংলা টেলিগ্রাফঃ বাংলা টেলিগ্রাফের পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
মাহবুব আলমঃ আপনাকেও ধন্যবাদ। সবসময় বাংলা টেলিগ্রাফের সফলতা কামনা করি।

sentbe-top