sentbe-top

বদলে যাচ্ছে স্মার্টফোনের পর্দা

smartphone-displayবদলে যাচ্ছে স্মার্টফোনের পর্দা। মোবাইল নির্মাতারা এখন ঝুঁকছেন নচ আর ভাঁজ করা ডিসপ্লের দিকে। মোবাইলের পর্দার ভবিষ্যতের কথা নিয়েই আজকের আয়োজন। তো চলুন শুরু করা যাক-

ভাঁজ খুললেই ফোন: সদ্য শেষ হওয়া মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে ভাঁজ করা যাবে এমন ডিসপ্লের বেশ কিছু ফোন দেখা গেছে। তার মধ্যে আছে স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোল্ড, হুয়াওয়ে মেট এক্স, অপোর একটি পরীক্ষামূলক মডেল; এমনকি এনারজাইজারও ভাঁজ করা ডিসপ্লের ফোন বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে। এ প্রযুক্তিটি ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ আকৃতির ডিসপ্লে অনায়াসে ভাঁজ করে পকেটে রাখা যাবে, ব্যবহার করা যাবে ফোনের মতো। তবে এ ডিজাইনের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা, ডিসপ্লে হিসেবে গরিলা গ্লাস দেওয়ার কোনো উপায় নেই। কেননা গ্লাস তো আর ভাঁজ করা যায় না। তাই প্লাস্টিক প্রটেক্টরেই ভরসা রাখতে হবে।

এ ছাড়া ভাঁজ করা ফোনে ব্যবহারযোগ্য অ্যাপ এখনো বাজারে নেই। এ কারণে এ ধরনের ফোনে অ্যাপ দেখতে সমস্যা হতে পারে। তবে বছর শেষে দুটি সমস্যারই সমাধান পাওয়া যেতে পারে।

ডিসপ্লের মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর: অবশেষে ২০১৯ সালে এসে এ প্রযুক্তিটি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। সর্বপ্রথম ভিভো এটি ব্যবহার শুরু করলেও সে সময় ডিসপ্লের মধ্যে বসানো ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ছিল অনেক। সেসব কাটিয়ে উঠে আজ দ্রুত ও নির্ভুলভাবে কাজ করায় নকিয়া, স্যামসাং ও শাওমির মতো নির্মাতারাও এই প্রযুক্তি তাঁদের ফোনে ব্যবহার করতে শুরু করেছেন।

ডিসপ্লেতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর থাকায় ফোন ব্যবহার হবে আরো সহজে, বিশেষ করে ফোন টেবিলে রেখেই আনলক করা যাবে, আবার সামনে বেজেলও থাকবে না। ব্যবহার যোগ্যতা ছাড়াও শুধু ডিজাইনে নতুনত্বের জন্যও এটির চল বাড়ছে। ভবিষ্যতে ডিসপ্লের যেকোনো অংশেই আঙুল রেখে স্ক্যান করার প্রযুক্তিও বাজারে আসবে।

নচের বদলে পাঞ্চ: নির্মাতারা ফোন থেকে বেজেল দূর করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তবে এ বছর নচ নয়, বরং সরাসরি ডিসপ্লের মধ্যে ফুটো করেই ক্যামেরা বসানোর দিকে নজর দিচ্ছেন তাঁরা। এই ডিজাইন স্যামসাং প্রথম তুলে ধরলেও সেটি প্রথম কাজে লাগিয়েছে হুয়াওয়ের অনার সিরিজ। এ বছর আরো অনেক ফোনেই এ ডিজাইনের দেখা মেলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ডিসপ্লে একটি কোনায় ফুটো থাকা অনেক ব্যবহারকারীর কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়নি, বিশেষ করে স্যামসাং নতুন ফ্ল্যাগশিপে সামনেই দুটি ক্যামেরা দেওয়ায় ফুটো হয়ে গেছে অনেক বড়সড়। তবে বিশাল নচের চেয়ে এ ডিজাইনে মোবাইলের জায়গা নষ্ট হবে কম।

পপ-আপ সেলফি ক্যামেরা: নচ পুরোপুরি বাদ দেওয়ার জন্য ভিভো প্রথম ডিজাইন করেছিল ক্ষুদ্র স্লাইডারে বসানো সেলফি ক্যামেরা-সংবলিত ফোন। তবে সে সময় কেউই ভাবেনি সেটিও জনপ্রিয়তা পাবে। ভিভো নেক্সের পথ ধরে বাজারে এসেছে অপো ফাইন্ড এক্স, এবার ওয়ানপ্লাস ৭ ফোনেও সেটি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে; এমনকি স্মার্টফোন বাজারের নতুন মুখ এনারজাইজারও পপ-আপ ক্যামেরা ব্যবহার করেছে তাদের ফোনগুলোতে। তবে এই প্রযুক্তি কতটুকু টেকসই হবে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বেশির ভাগ ব্যবহারকারীই। স্লাইডারটি ভেঙে যাওয়া, ভেতরের মোটর নষ্ট হয়ে যাওয়া বা ক্যামেরার রিবন কেবল নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো বেশ কিছু অঘটন ঘটার আশঙ্কা এ ডিজাইনে থেকেই যাচ্ছে। সময়ই বলে দেবে এ ডিজাইন শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না।

ডিসপ্লেই স্পিকার: ভবিষ্যতে কথা বলার জন্য প্রয়োজনীয় ইয়ারপিসও ডিসপ্লের ওপর থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছে। তার জায়গায় সরাসরি ডিসপ্লেকেই ব্যবহার করা হবে ইয়ারপিস হিসেবে। যদিও এই প্রযুক্তিটি নতুন নয়, কিন্তু জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে এ বছর থেকেই। প্রথম প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছিল শাওমি মিক্স সিরিজে। নতুন ফ্ল্যাগশিপে এবার এলজিও সেটি ব্যবহার করেছে। অন্য নির্মাতারাও প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে ডিসপ্লের ওপরে থাকা বেজেল পুরোপুরি বিদায় করার উপায় খুঁজছেন। বেজেল তাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিটি ফোনকে পানি ও ধুলানিরোধী করতে সাহায্য করবে। এলজির প্রযুক্তি শুধু ডিসপ্লেকে ইয়ারপিস বানানোই নয়, বরং ফোনের স্পিকারকে আরো জোরালো করতেও সহায়তা করছে।

সৌজন্যে- কালের কণ্ঠ

sentbe-top