cosmetics-ad

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ার সফলতা কামনায় কিমের চিঠি

north-korea-kim

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ার সফলতা কামনা করে একটি চিঠি লিখেছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের দফতর এই চিঠি পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

চীনের বাইরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ভয়াবহ প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে এই নতুন করোনাভাইরাস। তবে উত্তর কোরিয়ায় এখন পর্যন্ত কেউই করোনায় সংক্রমিত হননি বলে দেশটির সরকারি গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৮৮ জন এবং মারা গেছেন ৪৪ জন। শুধুমাত্র বৃহস্পতিবারই দেশটিতে নতুন করে ৪৩৮ জনকে করোনাং সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর দেশটির সঙ্গে সব সীমান্ত এবং যৌথ লিয়াজোঁ অফিস বন্ধ করে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

ফলে কার্যত দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এর মাঝেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন শুভকামনা জানিয়ে দক্ষিণের প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি বিবেচনা করে করোনা মোকাবেলায় দক্ষিণের নেতার দৃষ্টিভঙ্গি এবং অবস্থানের প্রশংসা করেছেন কিম।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের জ্যেষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি ইয়ুন দো-হান বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসে লড়াইরত আমাদের দেশের নাগরিকদের কল্যাণ কামনা করেছেন চেয়ারম্যান কিম। উত্তর কোরিয়ার নেতা বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন, আমরা এই ভাইরাসের লড়াইয়ে জয়ী হবো। দক্ষিণের নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।’

উত্তর কোরিয়ার নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফিরতি চিঠি পাঠিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর মহড়া ঘিরে দক্ষিণের নেতা সমালোচনা করার দু’দিন পর বিরল এই চিঠির আদান-প্রদান হলো।

এদিকে, তিন মাসের বিরতি দিয়ে গত সোমবার আবারও ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। যদিও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতা কিম ইয়ো জং বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কাউকে ভীতি প্রদর্শনের জন্য করা হয়নি। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সমালোচনা করায় দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীন সরকারকে বোকা বলে উপহাস করেন তিনি।

উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত দেশটিতে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত কোনও রোগী পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেনি। তবে দেশটির সরকারি গণমাধ্যম বলছে, করোনো সংক্রমিত সন্দেহে ইতোমধ্যে বেশ কিছু মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যমের দাবি, উত্তর কোরিয়ায় করোনা সংক্রমিত সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

সীমান্তবর্তী প্রায় প্রত্যেকটি দেশেই করোনাভাইরাস হানা দিলেও উত্তর কোরিয়ায় এখনও এই ভাইরাসে সংক্রমিত কাউকে পাওয়া যায়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দারিদ্র এই দেশটি সম্ভবত সংক্রমণ শনাক্ত করতে পারছে না। কোরীয় উপদ্বীপের দারিদ্রপীড়িত এই দেশটিতে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হলে তা চীনের চেয়েও ভয়াবহ প্রাণঘাতী হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তারা।

উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত ঘেঁষা চীনের দুটি প্রদেশে দুই শতাধিক মানুষকে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এমনকি আত্মীয়-স্বজন চীনে থাকায় অনেক কোরীয় হর-হামেশাই বৈধ অথবা অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পেরিয়ে দেশটিতে যান। বেইজিংয়ের ধীরগতির সতর্কতার কারণে উত্তর কোরিয়ায় এই ভাইরাসের বিস্তার ঘটে থাকতে পারে ধারণা করা হচ্ছে।

হংকংয়ের সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও এশিয়ার স্বাস্থ্য নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ নিকোলাস ডেভিড থমাস বলেন, উত্তর কোরিয়া এবং চীন সীমান্তে শক্তিশালী চোরাচালান নেটওয়ার্ক রয়েছে। সুতরাং শুধুমাত্র একজন চোরাচালানকারীর শরীরে করোনার প্রবেশই যথেষ্ট…আর এটা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাবে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ায় যদি এই ভাইরাস একবার পা রাখতে পারে তাহলে এটি দেশটিতে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ দেশটির স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা একেবারে দুর্বল। এ ধরনের ঘটনা দারিদ্রতা ও অপুষ্টিতে ভুগতে থাকা একটি দেশের মানুষের জীবনকে বিপদাপন্ন করে তুলতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল হেলথ কেয়ার সেন্টারের পরিচালক ডা. জন লিন্টন বলেন, উত্তর কোরিয়ায় যদি করোনাভাইরাস পৌঁছায়, যেখানে অন্যান্য অনেক অপ্রতুলতা এবং স্বাস্থ্যসেবার সঙ্কট রয়েছে; সেখানে মৃত্যুর হার কিছুটা বেশি হবে।

জাতিসংঘের তথ্য বলছে, দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৩ শতাংশ (এক কোটি ১০ লাখ) পুষ্টিহীনতার শিকার এবং ব্যাপক পরিসরে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। এমনকি অনেক প্রদেশে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট রয়েছে।

২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সূচক প্রকাশ করে। বিশ্বের ১৯৫টি দেশের এই তালিকায় স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা নিয়ে ১৯৩তম অবস্থানে ছিল উত্তর কোরিয়া।

সূত্র : রয়টার্স, আলজাজিরা।