sentbe-top

ফিফা বিশ্বকাপের শীর্ষ ১০ ভবিষ্যদ্বাণী

সিউল, ২৮ মে ২০১৪:

বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর বাকী আর মাত্র দুই সপ্তাহ। তাই ক্রমেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে বিশ্বকাপের উত্তাপ। প্রতিটি কাজে কর্মে আলোচনার মুল বিষয় ১২ জুন থেকে ব্রাজিলে শুরু হতে যাওয়া দি গ্রেটেস্ট শো অন দ্যা আর্থ। এর বিভিন্ন দিক নিয়েও শেষ নেই আলোচনার । পাশাপাশি চলছে নানান বিশ্লেষনের মাধ্যমে আগাম ভবিষ্যদ্বাণী।

আসন্ন বিশ্বকাপে কেমন করবে অংশগ্রহনকারী ৩২টি দল। কে জিতবে শিরোপা। আর কোন দলটি ফ্লপ করবে। এসব নানান বিষয় নিয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একটি সংবাদ সংস্থা আসন্ন বিশ্বকাপের শীর্ষ দশ ভবিষ্যদ্বানী প্রস্তুত করেছেন। নানান জরীপ, বিশেষজ্ঞদের মতামত, এবং সাংবাদিকদের একটি দলের মতামতের ভিত্তিতে সংস্থাটি আসন্ন বিশ্বকাপের শীর্ষ ১০টি ভবিষ্যদ্বানী প্রস্তুত করেছেন। যেখানে নিজের বিশ্লেষণধর্মী মত প্রকাশ করেছেন ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ পাইয়ে দেয়া কোচ রেমন্ড ডোমেনেচ। যিনি ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে ফরাসী দলটির প্রশিক্ষনের দায়িত্বে ছিলেন। ১৪ জন সাংবাদিকের গ্লোবাল প্যানেলও নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন প্রশ্নের ভিত্তিতে। যদিও ৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানের প্রভাবে কিছু ভবিষ্যদ্বানীর আগাম সমাধি ঘটেছে।

480px-WC-2014-Brasil.svgপ্রশ্ন এক : ব্রাজিল কি শিরোপা জিতবে?
ভবিষ্যদ্বাণী: হ্যা, জয়ের সম্ভাবনা আছে। কারণ প্রবীন কোচ লুই ফেলিপ স্কলারির তত্বাবধানে একটি মানসম্পন্ন ব্রাজিল দল গঠিত হয়েছে। তরুণ তারকা নেইমার গোল পাচ্ছেন এবং করাচ্ছেন। ২০০২ সালে ব্রাজিলকে শিরোপা পাইয়ে দেয়া স্কলারি মাঝপথে পুর্তগালে ঘুরে ফের ব্রাজিলের দায়িত্ব নিয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় দলটিকে একমাসের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষনের আওতায় নিয়ে এসেছেন। ২০১৩ সালে ম্যানো মেনেনজেসের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহনের পর স্কলারি ২০১৩ সালের কনফেডারেশন কাপ জিতিয়ে দিয়ে প্রমান করেছেন যে ব্রাজিল দলে তার ছোয়া কখনোই বৃথা যেতে পারেনা।

প্যানেলের মন্তব্য: এখানে তারা সমান দুইভাগে বিভক্ত। ১৪জনের মধ্যে ৭ জন বলছে ব্রাজিল শিরোপা জিতবে। ব্রাজিলে দায়িত্বপালনকারী ইএসপিএনের সাংবাদিক লিওনার্দো বেরতোজ্জির মনে,‘ঐতিহাসিক ভাবে এটি স্বীকৃত যে বিশ্বকাপে ব্রাজিল রেফারীদের অনুকম্পা পেয়ে থাকে। এবার যেহেতু নিজেদের মাটিতে খেলা, তাই সেটি জোরালো হবে’

ডোমেনেচ: ঐক্যমত পোষন করে ‘ কনফেডারেশন কাপের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে তারা প্রমান করেছে শিরোপার জোরালো দাবীদার।’

প্রশ্ন দুই: স্পেন কি শিরোপা জিতবে ?
ভবিষ্যদ্বাণী: এখানেও ইতিবাচক সবাই। স্পেন হচ্ছে প্রথম কোন দল যারা চতুর্থবার শীর্ষ শিরোপা জয়ের জোরালো দাবীদার। দক্ষিন আফ্রিকায় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ী দলটি দুইবার জয় করেছে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন শিরোপা। আরেকবার বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের জন্য একটিদলের যে পরিমান সামর্থ্য থাকা দরকার তার সবটুকুই এখনো বিদ্যমান স্পেন দলের। খেলার মান, অভিজ্ঞতা ,তরুন ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে ভারসাম্যতা এবং ভিসেন্তে দেল বস্কের মত একজন মানসম্পন্ন কোচ রয়েছে তাদের। দলের মিডফিল্ডার জাবি হার্নান্দেজের জন্য এটি অবশ্য শেষ বিশ্বকাপ। তার ফর্মও কিছুটা পড়তির দিকে। তবে ইনিয়েস্তা, ডেভিড সিলভা ও সার্জিও র‌্যামোস এখন দারুন ফর্মে রয়েছে। দলে আছেন ইকার ক্যাসিয়াসের মত বিশ্বসেরা গোল রক্ষক। আর পক্ষ ত্যাগ করে ব্রাজিলের পরিবর্তে স্পেন জাতীয় দলে যোগ দেয়া স্ট্রাইকার দিয়াগো কস্তা দলকে ভারসাম্যপুর্ন করেছেন।

প্যানেল: অধিকাংশ সমর্থন স্পেনের দিকে। ১৪ জনের মধ্যে ১২ জন স্পেনকে সমর্থন দিয়েছে। দি সানের সাংবাদিক মাইক ম্যাকগ্রার মতে,‘ প্রতিপক্ষ দল যদি পাল্টা আক্রমনের লক্ষ্য নিয়ে স্পেনের বিপক্ষে খেলে, তাহলেই কেবল স্পেন হারতে পারে।

ডোমেনেচ: স্পেনের খেলোয়াড়দের বয়স কিছুটা বেড়ে গেছে। তারপরও আমি মনে করি তারা বেশ মানসম্পন্ন খেলা উপহার দিবে।’

প্রশ্ন তিন: কোন দলটি সবচেয়ে বড় ফ্লপ করবে ?
ভবিষ্যদ্বাণী: ব্রাজিলে গিয়ে স্পেনের প্রাধান্য বিস্তারের ধারাবাহিকতা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। বাছাইপর্বে এর কিছু নমুনা পরিলক্ষিত হয়েছে। নিজেদের মাটিতে ৩০টি ম্যাচে অপরাজিত থাকা লা রোজারা ফ্রান্স সফরে পয়েন্ট খুইয়েছে। আরো বেশী বিষ্মিত করেছে ফিনল্যান্ডে। গোলের জন্য দলটিকে নির্ভর করতে হয়েছে ডিফেন্ডার সার্জিও র‌্যামোসের ওপর। এর মাধ্যমে প্রমানীত হয়েছে হরহামেসা আক্রমনের মধ্যে থাকা দলটির শেষ সফলতা অর্জনকতটা কঠিন হয়ে ওঠেছে। আটটি বাছাইপর্বের একটি মাত্র ম্যাচে তাদের আক্রমনভাগের খেলোয়াড় একাধিক গোল করতে পেরেছে। আর সেটি হচ্ছে বেলারুশের বিপক্ষে পেড্রোর হ্যাট্রিক। জর্জিয়ার বিপক্ষে গোল পেতে শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। আর ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছে খুবই সাদামাটা। বিশ্বকাপে স্পেনের রক্ষনভাগে ভুমিকা রাখতে হচ্ছে ৩৪ বছর বয়সী প্লে মেকার জাবিকে। তাই প্রতিআক্রমনের ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ভাল দলই স্পেনকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য যথেষ্ঠ।

প্যানেল: ১৪ জনের মধ্যে ৩ জন এর সঙ্গে একমত পোষন করেছে।

ডোমেনেচ: স্পেন সম্পর্কিত মন্তব্যের সঙ্গে একমত। তারা যদিও গ্রপ পর্বের বাধা অতিক্রম করতে পারবে। তবে নক আইট পর্ব থেকে কিছুটা আগেভাগেই দেশে ফেরার সম্ভানা রয়েছে।

প্রশ্ন চার: কে পাবে গোল্ডেন বুট?
ভবিষ্যদ্বাণী: এ জন্য লিওনেল মেসিকে সঠিক ব্যক্তি বলা যেতে পারে। বিশ্বকাপে ব্যর্থতার ইতিহাস তার নামের পাশে থাকলেও গোলের এই কারিগর দেশের জন্য গোল্ডেন বুট এনে দেয়ার জোড়ালো দাবীদার। চারবারের বিশ্ব সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পাওয়া মেসি তৃতীয়বারের মত বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেণ। তবে আপনাকে বিশ্বাস করতে কস্ট হবে যে এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে তার গোল সংখ্যা মাত্র একটি। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অংশ নিয়ে মেসি চমৎকার খেলে একটি গোল আদায় করেন। তবে ২০১০ সালে দিয়াগো ম্যারাডোনার শীর্ষ্যত্ব নেয়া মেসি কোন গোল পাননি। এখন সাবেলার প্রশিক্ষনে মেসি ব্রাজিলে তার আসল রূপ দেখাতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও লীগ মৌসুমের শুরুর দিকে ইনজুরীরর কারণে সাইডলাইনেই অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন মেসি। তবে সেটি জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনের সময় তাকে আরো বেশী উজ্জিবীত করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

আগামী জুনে ২৭ বছরে পা রাখতে যাওয়া মেসি ইতোমধ্যে ১৪টি বাছাইপর্বের ম্যাচে গোল করেছেন ১০টি। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের মত ডিসেম্বরের ড্র’তেও গরপ সঙ্গী হিসেবে আর্জেন্টিনা পেয়েছে হল্যান্ড ও আইভরিকোস্টকে। এই দলগুলোর বিপক্ষে অবশ্যই গোল করতে হবে মেসিকে। প্রতিপক্ষের রক্ষনভাগে যদি সামন্য শীতলতা পায় তাহলে মেসির গোল্ডেন বুট জয় করাটা সহজ হয়ে উঠবে। কারণ আর্জেন্টিনার বিশেষজ্ঞ হিসেবে পেনাল্টি নেয়ার দায়িত্বটিও তার ওপর রয়েছে। ২০১০ সালে ৫ গোল আদায় করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারটি পেয়েছিলেন জার্মানীর থমাস মুলার।

প্যানেল: ১৪ জনের মধ্যে অর্ধেকেরও কম ৬ জন এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষন করেছেন।

ডোমেনেচ: এক মত নন। তার মতে ব্রাজিলের কেউ একজন এটি লাভ করবে।

প্রশ্ন পাঁচ: লিওনেল মেসি কি আলো ছড়াতে পারবেন?
ভবিষ্যদ্বানী: না, এ বিষয়ে মেসি যথেষ্ঠ ভাল অবস্থায় নেই। তিনি গ্যাস জনীত সমস্যায় রয়েছেন। আছে ইনজুরিও। সর্বশেষ যুক্তহয়েছে তার বাঁ পায়ের পেশী জনীত ইনজুরি। যে কারণে প্রতিটি ম্যাচে তার অংশগ্রহনের বিষয়টি পর্যন্ত অনিশ্চিত। বছরের পর বছর ধরে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের রক্ষনভাগে প্রতিহত করার ঘটনা তাকে বেশ হতাশ করে তুলেছে।
বার্সেলোনার সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলার আমলে মেসি ইনজুরী ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে খেলতে পেরেছেন। তবে গার্দিওলা দল ছেড়ে দেয়ার পর হ্যামস্ট্রিং সমস্যা দিয়ে গত মৌসুম থেকে শুরু হয় মেসির ইনজুরি। আর বিশ্বকাপে তাকে এ পর্যন্ত সেভাবে জ্বলে ওঠতে দেখা যায়নি। এবারের বিশ্বকাপে যদি ফাইনাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনা যেতে পারে তাহলে মোট ম্যাচ হবে ৭টি। আর সে জন্য মেসিকে অবশ্যই পরিপুর্নভাবে সুস্থ থাকতে হবে।

প্যানেল: ১৪ জনের মধ্যে মাত্র ৫ জন মনে করেন মেসি ফ্লপ করবেন।

ডোমেনেচ: একমত নন। মেসির সুস্থ হবার মত যথেষ্ঠ সময় রয়েছে। কারণ তিনি যখন অসুস্থ হয়েছেন তার অন্তত ছয়মাস পর বিশ্বকাপ মাঠে গড়াচ্ছে।

প্রশ্ন ছয়: আফ্রিকা মহাদেশের কোন দলটি ভাল করবে ?
ভবিষ্যদ্বানী: দিদিয়ের দ্রগবার অনুপ্রেরনায় উজ্জীবিত আইভরি কোস্ট কোয়ার্টার ফাইনালে যাবার সম্ভাবনা বেশী। তবে এটিও সত্যি যে ৩৬ বছরে পা রাখা দ্রগবা এর আগে দুই দফা বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তার দলকে একবারের জন্যও গ্রুপ পর্বের বৈতরনী পার করিয়ে দিতে পারেননি। তার্কিশ ক্লাব গালাতাসারের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে অংশ নিয়ে দ্রগবা আবারো প্রমান করেছেন যে গোল করার ক্ষমতা তিনি এখনো হারিয়ে ফেলেননি। এটি হবে দ্রগবার শেষ বিশ্বকাপ এবং সর্ববৃহৎ কোন টুর্ণামেন্ট, যেটিতে শেষবারের মত নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন। তাই তিনি বেশ মনোযোগী থাকবেন এবং দলকে উজ্জীবিত রাখার চেস্টা করবেন। ইয়া ইয়া টরেকে সঙ্গী করে দ্রগবার দলটিই এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেয়া আফ্রিকার ৫ দলের মধ্যে এগিয়ে থাকবে।

প্যানেল: ১৪ জনের মধ্যে ৫ জন এই ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে একমত।

ডোমেনেচ: একমত নন। তার মতে নাইজেরিয়া এগিয়ে।

প্রশ্ন সাত: এবারো কি জার্মানীর ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ জয়লাভ করবে?
ভবিষ্যদ্বাণী: না, জার্মানী সব সময় একটি বড় জয় দিয়েই শুরু করে। টুর্ণামেন্টের বাকী ম্যাচ গুলো খেলতে খেলতে তারা সেই ঐজ্ঝল্য হারাতে থাকে। বিশেষ করে সেমিফাইনালের পর তাদের খুজে পাওয়া দুস্কর হবে। এই মুহুর্তে অসাধারণ পারফর্মেন্স প্রদর্শন করলেও আবারো ব্যর্থ হবার সম্ভানা রয়েছে জোয়াচিম লোর দলটির। কারণ ৬ ডিসেম্বরের ড্র অনুযায়ী সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকতে পারে ইতালী। আর অতীত রেকর্ড অনুযায়ী জার্মানী বড় কোন আসরে কখনো ইতালীকে হারাতে পারেনি। এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে তারুন্য নির্ভর দল পাঠাচ্ছে জার্মানী। যাদের আক্রমনভাগ ছাড়া বাকী বিভাগ গুলোতে অভিজ্ঞতার বেশ ঘাটতি রয়েছে। শুধুমাত্র আক্রমনভাগে থাকবেন মিরোস্লাভ ক্লোজা ও ম্যারিও গোমেজ। জার্মানীর রক্ষনভাগে রয়েছে বড় দুর্বলতা। লোর দর্শন হচ্ছে হজমের চেয়ে বেশী গোল করা। তবে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ৪-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও সুইডেনের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত ৪-৪ গোলে ড্র করে সাদা জার্সির অধিকারীরা। এতেই দলটির রক্ষনভাগের দৈন্যতা ফুটে ওঠেছে।

প্যানেল: এবারও দুইভাগে বিভক্ত ১৪ সদস্যের প্যানেল। ব্রাজিলের ট্রাভেল ডট কমের সাংবাদিক আবিরাটান লিয়ালের মতে, এখন তাদের সময় হয়েছে যে কোনভাবে জয় পাওয়ার। গত চ্যাম্পিয়ন্স লীগের মাধ্যমে বায়ার্ন ও ডর্টমুন্ড তাদের সম্ভাবনার দ্বার উন্মেচন করে দিয়েছে।’

ডোমেনেচ:আমি এই বক্তব্যের সঙ্গে সম্পুর্ন একমত। সবকিছু থাকার পরও তাদের কিছু জিনিসে ঘাটতি থাকে, যেটি দলটিকে খুব বেশী দূরে যাবার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। সময় যত গড়াতে থাকে তাদের খেলার সামর্থ্যও কমতে থাকে।’

প্রশ্ন আট: কোন দলটি সবচেয়ে বড় বিষ্ময়ের সৃষ্টি করবে?
ভবিষ্যদ্বাণী: ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপ খেলেনি বেলজিয়াম। তার চেয়েও বেশী দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে কলম্বিয়া। যারা সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলেছে ১৯৯৮ সালে। এই দল দুটিকে ব্রাজিল বিশ্বকাপে ‘ডার্ক হর্স’ বলা যেতে পারে। অন্য দলের সঙ্গে দল দুটির যে ফলাফল, তার সঙ্গে কোনভাবেই ফিফা র‌্যাংকিং এর সঙ্গে যায়না। তারা এখন শীর্ষ ৫ ফুটবল দেশের মধ্যে রয়েছে। অভিজ্ঞতায় ঘাটতি থাকা সত্বেও সহজেই দলদুটি ন্ত্র“প পর্ব পার হয়ে আসতে পারবে। রিডিমিল ফ্যালকাও ও জেমস রড্রিগুয়েজ হচ্ছেন কলম্বিয়ার খেলার চেহারা পাল্টে দেয়ার ক্ষমতা ধারী দুই তারকা। আর বেলজিয়ামের রয়েছে প্লে মেকার ইডেন হ্যাজার্ড। যারা যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পারদর্শী। দল দুটির একটি সেমি ফাইনালে ওঠতে পারে।

প্যানেল: ১৪ জনের মধ্যে ১০জন এই বানীর সঙ্গে একমত। ডেনমার্কের সাংবাদিক সোরেন-মিকায়েল হানসেনের মতে,‘ ভারতনগেন, হ্যাজার্ড ও লকাকুর সমন্বয়ে বিশ্বকাপের জন্য দুর্দান্ত একটি দল গঠন করেছে বেলজিয়াম।’

ডোমেনেচ: না, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল এবং জার্মানীর পর আমার দৃষ্টিতে সেমিফাইনালিস্ট হচ্ছে ইতালী।

প্রশ্ন নয়: ইংল্যান্ড কি ১৯৬৬ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারবে?
ভবিষ্যদ্বাণী: না, বিশ্বের শীর্ষ লীগ পরিচালনাকারী জাতিটির এখনো আন্তর্জাতিক সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ১৯৯৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ব্রাজিল বিশ্বকাপে আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে পারবেন বলে মনে করছেন না তাদের দীর্ঘ প্রতিক্ষিত সমর্থকরাও। রয় হডসনের দলটি যেমন বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারবেনা ,তেমনি পারবেনা ১৯৯০ সালে ববি রবসনের দলের মত সেমিফাইনালে পৌছাতে। এমনকি ইংলিশ ফুটবল এসাসিয়েশনের সভাপতি গ্রেগ ডেইকও ২০২২ সালের শিরোপা জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছেন। দলের আক্রমনভাগে থাকছেন কিছুটা পরিপুস্ট হওয়া তাকা স্ট্রাইকার ওয়েন রুনি। মিডিয়া শো ডাউনের কারণে ইংলিশ দলকে বেশ শক্তিশালী মনে হলেও শেষ ১৬এর বৈতরনী পার হবার সম্ভাবনা খুবই কম ইংলিশ দলের।

প্যানেল: ১৪ জনের মধ্যে ১০ জন একমত।

ডোমেনেচ: আমি একমত। শেষ ষোল অতিক্রম না করাটা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে।

প্রশ্ন দশ:যুক্তরাস্ট্র কি কোয়ার্টার ফাইনালে পৌছতে পারবে?
ভবিষ্যদ্বাণী: না, ২০০২ সালে একবরাই সেটি হয়েছে। ১৯৯০, ১৯৯৮, ২০০৬ সালের আসরে তারা গ্রুপ পর্বের বাঁধাই পেরুতে পারেনি। ১৯৯৪ ও ২০১০ সালে তারা ১৬ ষোল পর্যন্ত পৌছাতে পেরেছিল। মেজর লীগ সকারের বদৌলতে ক্রমে ফুটবল জনপ্রিয়তা পেলেও জার্মানের সাবেক অধিনায়ক জার্গেন্স ক্লিন্সম্যানের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়া দলটির শেষ ১৬ এর বৈতরনী পার হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীন। নর্থ এন্ড সেন্ট্রাল আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে শীর্ষ দল হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও ৬ ডিসেম্বরের ড্র’র কারণে তাদেরকে লড়তে হবে শিরোপার অন্যতম দাবীদার ব্রাজিলের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে জয় না পেলেও ব্রাজিল সহ অন্য আরেকটি শীর্ষস্থানীয় দলের সঙ্গে অন্তত ড্র করেইন্ত্র“প পর্ব পার হতে হবে যক্তরাস্ট্রকে।

প্যানেল : এ ব্যাপারে একমত প্যানেলের সিংহভাগ। ১৪ জনের মধ্যে ১১ জনের অভিমত বেশীদূর যাবার মত সামর্থ্য যুক্তরাস্ট্রের নেই।

ডোমেনেচ: একমত নই। আমার বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্র কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে। প্রতিটি বিশ্বকাপে আমি তাদেরকে বেশ সংঘটিত চেহারায় দেখিেছ। তাদের খেলাগুলো সাধারনত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপুর্ন থাকে। ২০০৬ সালে আমি তাদেরকে দেখেছি ইতালীকে হারাতে। যে কারণে আমার দল (গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে) টুর্ণামেন্ট থেকে বাদ পড়ে।

sentbe-top