sentbe-top

খোকন রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড

Khokon

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভা মেয়র ও পলাতক বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন ওরফে খোকন রাজাকারের ফাঁসির রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ, ধর্মান্তরে বাধ্য করা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের ১১টি অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আসামির অনুপস্থিতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩য় মামলার রায় এটি।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। এ ট্রাইব্যুনালের অপর ২ সদস্য হলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হক।

এর আগে ট্রাইব্যুনালের ১ম রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার এবং ৯ম রায়ে একাত্তরের ২ বদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তারা এখনও পলাতক রয়েছেন।

গত বছরের ৯ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে খোকন রাজাকারের বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের ২ এপ্রিল।

তার বিরুদ্ধে ১৬ জন নারী ও শিশুসহ ৫০ জনকে হত্যা, ৩ জনকে পুড়িয়ে হত্যা, ২ জনকে ধর্ষণ, ৯ জনকে ধর্মান্তরিত করা, ২টি মন্দিরসহ ১০টি গ্রামের বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, ৭ জন গ্রামবাসীকে দেশান্তরে বাধ্য করা ও ২৫ জনকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউশনের তদন্ত সংস্থা বলছে, ১৯৭১ সালের ২৯ মে চাঁদহাটে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও রাজাকার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের বড় ধরনের যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে জাফর রাজাকার মারা যাওয়ার পর তার ভাই খোকন নগরকান্দা রাজাকার বাহিনীর প্রধান হন।

১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে খোকন জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে বৃহত্তর ফরিদপুর এলাকায় প্রচার চালান। পরে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে জড়ান এবং নগরকান্দা পৌর কমিটির সহ-সভাপতি হন।

২০১১ সালে তিনি নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

sentbe-top