sentbe-top

উত্তর কোরিয়ায় প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত দ. কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়ার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইনের ফোনালাপের পর বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায় দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্টের দফতর ।

এদিকে, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত সবশেষ মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে পিয়ংইয়ং। এসবের মধ্যেই, সিউলে উত্তর কোরিয়া বিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধী দল রক্ষণশীল ‘কোরীয় প্যাট্রিঅটস পার্টি’।

সিউলে উত্তর কোরিয়া বিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধী দল রক্ষণশীল প্যাট্রিঅটস পার্টি। বিরোধী দল আয়োজিত এ বিক্ষোভে বৃহস্পতিবার প্রায় ১০ হাজার দক্ষিণ কোরীয় অংশ নেয়। এসময় তারা, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করায় প্রেসিডেন্ট মুন জে ইনের তীব্র সমালোচনা করেন।

তারা বলেন, ‘মুন জায়ে ইনের কারণে আমাদের জাতীয় ঐক্য ভেঙে যাচ্ছে। উত্তর কোরিয়াপন্থী এ নেতা পিয়ংইয়ংয়ের হাস্যকর প্রস্তাবে সহযোগিতা করছেন। তার এ পদক্ষেপের ফলে দক্ষিণ কোরিয়া দ্রুতই পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়াকে রক্ষায় আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি।’

সরকার দক্ষিণ কোরীয়দের প্রত্যাখান করে উত্তর কোরিয়াকে গ্রহণ করছে। প্রশাসনের উচিৎ দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য কাজ করা। কিন্তু মুন জায়ে-ইনের কাজকর্ম দেখে তাকে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলে মনে হয়।

বিরোধীদের চলমান বিক্ষোভ উপেক্ষা করে উত্তর কোরীয় সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে পিয়ংইয়ংয়ে প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দফতর জানিয়েছে, এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ফোনে কথা বলেছেন। ৩০ মিনিটের ফোনালোচনায় শীতকালীন অলিম্পিক উপলক্ষে উত্তর কোরীয় প্রতিনিধিদের দক্ষিণ কোরিয়ায় আগমন এবং সিউলে দু’পক্ষের মধ্যকার বৈঠক সম্পর্কে মুন, ট্রাম্পকে অবহিত করেন। এসময়, উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে গড়ে ওঠা সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার বিষয়ে একমত হন তারা।

তবে, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে পরমাণু হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা অর্জন করে থাকলে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক হামলার বিকল্প থাকবে না তাদের কাছে। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানো হলে অভিযানের প্রথম কয়েকদিনে মার্কিন সেনা হতাহতের সংখ্যা ইরাক ও আফগানিস্তানে চেয়ে বেশি হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনী। সম্ভাব্য কিছু বিষয় পর্যালোচনা শেষে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রধান জানান, ইরাক আফগানিস্তানে অভিযানের প্রথম কয়েকদিনে ৩ হাজারের মতো মার্কিন সেনা হতাহতের শিকার হয়। তবে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে তা ১০ হাজার ছাড়াবে বলে জানান তিনি।

এসবের মধ্যই, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত সবশেষ মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে পিয়ংইয়ং। বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাষ্ট্র বিষয়ক বিভাগের দেয়া বিবৃতিতে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কে.আর.টি’তে প্রচার করা হয়। এতে বলা হয়, অন্যদেশের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্য ছিন্ন করতেই যুক্তরাষ্ট্র পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে এক তরফভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

তিনি বলেন, ‘সবশেষ নিষেধাজ্ঞা কাজে না এলে আরো ভয়াবহ পদক্ষেপ নেয়া হবে-ট্রাম্পের এমন হুমকিতে আমরা ভীত নই। কারণ এধরনের বিষয়ের সঙ্গে আমরা পরিচিত। নিজস্ব পদ্ধতিতে ট্রাম্পের যে কোনো ধরনের পদক্ষেপের জবাব দিতে প্রস্তত আছি আমরা।’

গেলো শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের সবচেয়ে কঠোর এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যার মধ্য- এক ব্যক্তি ২৭টি জ্বালানি কোম্পানি ও ২৮টি জাহাজ অন্তর্ভুক্ত।

sentbe-top