পাহাড়ের ওপরে বাংকার খনন, এখনো উত্তপ্ত সীমান্ত পরিস্থিতি

mayanmar-armyনাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের তামব্রু কোনারপাড়া সীমান্ত পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল বেলা ৩টার দিকে রাচিডং, বুচিডং থেকে আসা উচ্চপদস্থ বিজিপি, সেনা ও নাটালা বাহিনীর ৫০ জনের তিনটি গ্রুপ পাহাড়ের ওপরে অবস্থান নিয়ে বাইনোকুলার দিয়ে এপারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।  রাখাইন শ্রমিকেরা নতুন করে পাহাড়ের ওপর বাংকার খনন করছে।

পাশাপাশি গাছের ওপর সিসি ক্যামেরার মতো কিছু একটা স্থাপন করা হয়েছে। শূন্যরেখায় রাতে সেনা, দিনে বিজিপি ও নাটালা বাহিনী টহল অব্যাহত থাকায় সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি এখনো উন্নতি হয়নি। ঘটনাস্থল ঘুরে প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে গতকাল এসব তথ্য জানা যায়।

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খানের সাথে মুঠোফোনে আলাপ করে জানতে চাওয়া হলে বাংকার খননের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটা তাদের নিরাপত্তার জন্য করতে পারে। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো আছে। এ ব্যাপারে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান একে জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে সব সময় বিজিপি, সেনা ও নাটালা বাহিনীসহ রাখাইন যুবকেরা ঘোরাঘুরি করে। রাতের বেলায় তারা মদ্যপ অবস্থায় সীমান্ত রেখায় অবস্থিত রোহিঙ্গাদের ঝুপড়িতে বিভিন্ন কিছু নিক্ষেপ করে। যাতে রোহিঙ্গারা অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শূন্যরেখা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। বিজিপি, সেনা সদস্যদের ঘন ঘন উপস্থিতি ও টহলের কারণে এপারের গ্রামগুলোতে বসবাসরত লোকজনকে আতঙ্কে থাকতে হয়। তিনি আরো বলেন, তামব্রু খালে এ সময় প্রচুর শাকসবজি ও বিভিন্ন ফলমূল উৎপাদন করত স্থানীরা । কিন্তু মিয়ানমার সেনা ও বিজিপির অপতৎপরতার কারণে চলতি মওসুমে কিছুই করতে পারেনি।

শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গা নেতা আবুল শামা জানান, দিনের বেলায় বিজিপি ও নাটালা বাহিনীর সদস্যরা বাংকারে অবস্থান নেয় এবং রাতে সশস্ত্র সেনা বাহিনী সীমান্ত সড়কে টহল দেয়। সোমবার ৩টায় বুচিডং, রাচিডং থেকে আশা উচ্চপদস্থ সেনা, বিজিপি ও নাটালা বাহিনীর সদস্যরা সীমান্ত সড়ক ঘেঁষা ওপারে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে বাইনোকুলার লাগিয়ে এপারের পরিস্থিতি দেখছিল। ওই রোহিঙ্গা নেতা আরো জানান, তারা পাহাড়ের ওপর নতুন করে বাংকার খনন করেছে এবং গাছে গাছে সিসি ক্যামেরার মতো কি যেন স্থাপন করতে দেখা গেছে।

দূরত্ব হওয়ার কারণে স্পষ্ট বুঝা যায়নি। আবার মিয়ানমার সেনারা পাহাড়ের চূড়া থেকে শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের ওপর তিক্ষè দৃষ্টি রাখায় ভয়ে রোহিঙ্গারা তাদের কার্যকলাপ ভালো করে দেখতে পারেনি যা দেখা গেছে এতে মনে হয় তারা নতুন কোনো কূটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে।