sentbe-top

সৌদিতে চাকরি হারানোর আতঙ্কে প্রবাসী শ্রমিকরা

সৌদি আরবে ২ লাখের বেশি বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। দেশটির নতুন শ্রম আইন ‘নিতাকত’ তথা সৌদিকরণের কারণে এমনটি হয়েছে। সৌদি আরব থেকে বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য নতুন এ আইনটি প্রণয়ন করেছে সৌদি সরকার। এতে দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশি শ্রমিকরা রীতিমত চাকরি হারানোর আতঙ্কে রয়েছে।

সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে দেশটিতে ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছিল। এই আইনটি চালু হওয়ার পূর্বে প্রায় দুই মিলিয়ন ফার্ম ছিল।

বদর আল মুতাওয়া নামের এক সৌদি বিশেষজ্ঞ বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো বাজার থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে কারণ সরকার অবৈধ ব্যবসা, আবাসিকতা ও শ্রম আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, প্রায় ৩৬ হাজার ৯৫১ টি কোম্পানি নিতাকাত আইন অনুযায়ী লাল এবং হলুদ ক্যাটাগরির আওতায় আছে কারণ তারা পর্যাপ্ত পরিমাণ সৌদি নাগরিককে কাজে নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। লাল এবং হলুদ তালিকাভুক্ত প্রায় আধা মিলিয়নের বেশি কোম্পানি যাদের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিদের ৮ শতাংশ সৌদি নাগরিক।

KSAএকইভাবে সৌদি জাতীয়করণ তথা ‘নিতাকাত’ আইনে ১৭ হাজারের বেশি কোম্পানি লাল চিহ্নিত। এদের মধ্যে ১৬ হাজার ৪৯৮ টি ছোট প্রতিষ্ঠান, ৭৮৬ টি মাঝারি, ২৯ টি বড় কোম্পানি রয়েছে এবং একটি বৃহৎ কোম্পানি। সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয় আরো জানায়, ১৯ হাজার ৬৩৭ টি হলুদ চিহ্নিত কোম্পানির মধ্যে ১৬ হাজার ৬৫৪ টি ছোট কোম্পানি, ২ হাজার ৮৩৩টি মাঝারি, ১৪৬ টি বড় এবং চারটি বৃহৎ কোম্পানি আছে।

আল মুতাওয়া জানান, বিশেষ করে স্বল্প শিক্ষিত সৌদি আরবীয়রা বিশেষ সময়ে এ ধরনের ছোট এবং মাঝারি কোম্পানিগুলো খুলে থাকেন। তাই তাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, সৌদি আরব ব্যবসার জন্য খুবই উত্তম জায়গা। কারণ এর জন্য কোন ট্যাক্স নেই। তাই তিনি বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক, সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব সৌদি উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার আহবান জানান।

তিনি বলেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন এসব প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই তাদের সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো ৬ হাজার রিয়াল করতে হবে। তবে ‘নিতাকাত’ আইনটি রীতিমত আতঙ্ক তৈরি করেছে প্রবাসী শ্রমিকদের মনে। কারণ এতে তাদের ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইনটির খসড়া অনুযায়ী জানা যায়, সৌদি আরবে কর্মরত বিদেশিদের জন্য দেশটিতে অবস্থানের মেয়াদ সর্বোচ্চ আট বছর করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। আর এ আইনে প্রবাসী শ্রমিকদের বেতন কাঠামোও নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

তাতে একজন বিদেশী কর্মী সর্বোচ্চ ছয় হাজার সৌদি রিয়াল বেতন পাবেন। তাই প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে যারা একটু সচেতন তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। এ আইনের ফলে অনেক বিদেশি শ্রমিকই দেশটিতে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। দেশটিতে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিকও কর্মরত রয়েছেন। সূত্র : আরব নিউজ

sentbe-top