cosmetics-ad

এবার নিজামী ও মীর কাশেমের পালা

nizami-kasem

মানবতাবিরোধী অপরাধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এবার জামায়াতের আমির সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এখন এই দুই জনের আপিল শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।

এবার নিজামী ও মীর কাসেম আলীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে তাদের দু’জনকেই মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আনা দু’জনের আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ। রায়ে ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে নাকি দণ্ড কমানো হবে তা নির্ভর করছে আপিল বিভাগের বিশেষ বেঞ্চের ওপর।

২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডের খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেন নিজামী। একই বছরের ৩০ নভেম্বর আপিল করেন অপর জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি আপিলেরই আবেদন করা হয়।

এখন পর্যন্ত আপিলে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যে কয়টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে তার সবই ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়ের ক্রমে বজায় ছিল। দেখা গেছে, ট্রাইব্যুনালে যে মামলার রায় আগে ঘোষণা করা হয়েছে সেটিতে আগে আপিল আবেদন করা হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় আপিল শুনানি চলছে।

এছাড়া একটি শুনানি শেষ হলেই পরের মামলার আপিল শুরু করেছেন আপিল বিভাগ। এই ধারা বজায় থাকলে পর্যায়ক্রমে আগে নিজামীর ও পরে মীর কাসেম আলীর আপিলের শুনানি হতে পারে। তার পরবর্তীতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের আপিল শুনানি হতে পারে।

একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর জামায়াতের দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। দলটির আরেক নেতা সিনিয়র নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় আপিলের চূড়ান্ত রায় হওয়ার পর তিনি এখন কারাবন্দি। তাকে আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড থেকে দণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন।

এ তিনজনের পর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল শুনানি শেষে যথাক্রমে গত ১৬ জুন ও ২৯ জুলাই রায় দেওয়া হয়েছে। সব মিলয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এখন পর্যন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি আপিল মামলার রায় ঘোষণা করেছেন।

চতুর্থ ও পঞ্চম মামলায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সাকা চৌধুরীর ফাঁসির রায় বহাল রয়েছে। এখন এ দু’টি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি বের হলে নিয়ম অনুসারে তারা রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করতে পারবেন। রিভিউ খারিজ হলে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুসারে রায় কার্যকর হবে।

নিজামীর আপিল মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তার আইনজীবী শিশির মনির জানান, আদালতের আদেশ অনুসারে আপিল মামলার সারসংক্ষেপ দাখিল করা হয়েছে।

এবার নিজামীর আপিল মামলার শুনানি শুরু হবে কি-না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরই ট্রাইব্যুনালে নিজামীর রায় দেওয়া হয়েছে। এখন সর্বোচ্চ আদালতই নির্ধারণ করবেন, কোন মামলা আপিল শুনানিতে আসবে।

কিছুদিন আগে সাংবাদিকদের কাছে প্রায় কাছাকাছি বক্তব্য দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেছেন, ক্রমিক অনুসারে সালাউদ্দিন কাদেরের পর জামায়াতের আমির নিজামীর মামলা আপিল শুনানিতে আসতে পারে।

জানা গেছে, নিজামী ও মীর কাসেম আলীর মামলায় রাষ্ট্র ও আসামি উভয় পক্ষের সারসংক্ষেপ জমা দেয়ার কথা রয়েছে। গত ১০ মার্চ আপিল বিভাগ এক আদেশে ৩১ মার্চের মধ্যে সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলেছিল। এদিন আপিল বিভাগ আদেশে বলেছিলেন, নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে সারসংক্ষেপ জমা না দিলে ধরে নেওয়া হবে আপিল শুনানির জন্য উভয় পক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।

এছাড়া মীর কাসেম আলীর মামলায় গত ২৮ মে আপিল বিভাগ এক আদেশে পরবর্তী চার সপ্তাহের মধ্যে উভয় পক্ষকে সারসংক্ষেপ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আপিল বিভাগের এই নির্দেশনা অনুযায়ীই আগে নিজামীর আপিলের শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে কোন আপিলটি আগে শুনবেন।

নিজামী ও মীর কাসেম আলীর আপিলের শুনানির পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন, জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জবাসী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার, এটিএম আজহারুল ইসলাম, মাওলানা আবদুস সুবহান এবং ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বারের আপিলের ওপর শুনানি হতে পারে। তাদের মধ্যে আবদুল জব্বার ছাড়া অন্যদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। জব্বার ছাড়া অন্যরা কারাবন্দি। পিরোজপুরের সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির নেতা আবদুল জব্বার পলাতক থাকলেও সরকারপক্ষ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। এছাড়া অন্য যারা পলাতক রয়েছেন তারা আপিল করতে পারেননি।

এ পর্যন্ত মোট ২০টি মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে, তার মধ্যে ১৫টি মামলায় ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করা হয়েছে। তবে ৫টি মামলায় কোনো আপিল করা হয়নি। কারণ ওই সব মামলার আসামিরা পলাতক রয়েছে। পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে কোনো আপিল দায়ের করা হয়নি।(জাগোনিউজ)