cosmetics-ad

পথশিশুদের ভালোবাসার ফল কারাবাস!

child-odommo-bangladesh

সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের নিয়ে গড়ে ওঠা `অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন` এর চার উদ্যোক্তা এখন কারাগারে। পথশিশুদের মেধা বিকাশে বিভিন্ন সংগঠনও তারা দাঁড় করান। পথশিশুদের উপকার করাই যাদের একমাত্র কাজ ছিলো দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে তারাই এখন কারাবাস করছেন!

অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন` এর চার উদ্যোক্তা আরিফুর রহমান, জাকিয়া সুলতানা, হাসিবুল হাসান সবুজ ও ফিরোজ আলম খান শুভ। এদের বিরুদ্ধে শিশু পাচারের অভিযোগে মামলা হলেও এখনও এ ব্যাপারে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পথশিশুদের সমাজের মূলধারায় আনতে তারা ২০১৩ সালে চালু করেন `মজার স্কুল` নামে চারটি অস্থায়ী স্কুল ও `বায়ান্ন` নামে একটি আশ্রয়কেন্দ্র। কিন্তু কে জানত যাদের উপকার করার জন্য এই চার জন দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন আইনের মারপ্যাঁচে তারাই আজ আস্তাকুড়ে নিক্ষেপিত হবেন।

এদিকে তাদের মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় মানববন্ধনকারীরা তাদের বক্তব্যে উদ্যোক্তা চার তরুণ-তরুণীকে নির্দোষ দাবি করে তাদের মুক্তির দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, শনিবার রাজধানীর রামপুরার বনশ্রীতে অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ১০ শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় চার তরুণ-তরুণীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এদিকে পুলিশ বলছে, মোবারক নামে সেখানে থাকা এক শিশুর চাচা মনির হোসেন অভিযোগ করেন, তার ভাতিজাকে আশ্রয়কেন্দ্রে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে। এই অভিযোগে তিনি মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলাও করেন। সেই মামলায় চারজনকে গ্রেফতারের পর রোববার দু`দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য না পেয়ে বুধবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মোবারককে তার চাচার কাছে এবং অপর নয় শিশুকে পাঠানো হয় টঙ্গীর শিশু-কিশোর সংশোধনকেন্দ্রে।

এ ব্যাপারে রামপুরা থানার অপারেশন অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এক শিশুর অভিভাবকের অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। শিশুটিকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল মর্মে সে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। তারা মানব পাচারে জড়িত কি-না তা তদন্ত শেষ হলে বলা যাবে।

গ্রেফতারকৃতদের স্বজন ও সহকর্মীরা বলছেন, পথশিশুদের প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা কাজ করতে নেমেছিলেন। আইনের মারপ্যাঁচ তাদের জানা ছিল না। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্যের সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠতে পারে না।