sentbe-top

তুলা আমদানিতে চীনকে ছাড়িয়ে শীর্ষে যাচ্ছে বাংলাদেশ

tulaতুলা উৎপাদন ও আমদানি— উভয় দিক থেকেই শীর্ষ স্থানটি দখলে রয়েছে চীনের। তবে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা এবং মজুরি বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠিন সময় পার করছে দেশটি। এ পরিস্থিতিতে তুলা আমদানির প্রক্ষেপণ কমিয়ে দিয়েছে চীন। এ প্রক্ষেপণ সঠিক হলে পণ্যটি আমদানিতে চীনকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের প্রতিবেদনে তুলা আমদানির এ ভবিষ্যৎ চিত্র উঠে এসেছে।

চলতি মাসে ‘কটন: ওয়ার্ল্ড মার্কেটস অ্যান্ড ট্রেড’  শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১৫-১৬ শেষে তুলার প্রধান আমদানিকারক হবে চারটি দেশ— বাংলাদেশ, চীন, পাকিস্তান ও ভিয়েতনাম। এর মধ্যে বাংলাদেশ হবে সবচেয়ে বড় আমদানিকারক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ এরই মধ্যে তুলার চাহিদা ২ লাখ বেল বৃদ্ধি করেছে। এর মাধ্যমে অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ হবে ৫৯ লাখ বেল। অন্যদিকে চীন এরই মধ্যে চাহিদা কমিয়েছে আড়াই লাখ বেল। ফলে অর্থবছর শেষে দেশটি আমদানি করতে পারে ৫৫ লাখ বেল। স্পিনিং মিলগুলোর চাহিদা এবং সম্প্রতি ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ চালানের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম তুলা আমদানিকারক দেশ হবে বলে আভাস দিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, শীর্ষ আমদানিকারকদের মধ্যে পাকিস্তানের আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে ২০ লাখ বেল। ৭ লাখ বেল চাহিদা বাড়ানোয় অর্থবছর শেষে এ পরিমাণ তুলা আমদানি করবে দেশটি। নিজেদের ফলন কমে যাওয়া ও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে পাকিস্তানের আমদানিতে এ উল্লম্ফন আসতে পারে। আবার ভিয়েতনামে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রভাবে দেশটিতে চাহিদা সাড়ে ৩ লাখ বেল বেড়ে যাবে। এতে দেশটি ৫২ লাখ বেল তুলা আমদানি করতে পারে।

মার্কিন কৃষি বিভাগের প্রক্ষেপণকে অতিউচ্চাশা বললেও এ তথ্যকে খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশে তুলাজাত সুতার উৎপাদক ও ব্যবহারকারীরা। তাদের মতে, এ আভাস বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পরিষ্কার ইঙ্গিত। এ ইঙ্গিত বাস্তবে রূপ নিলে তৈরি পোশাক রফতানি আরো অনেক বাড়বে বলে আশা করা যায়। তবে এ পরিস্থিতি ধরে রাখা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি ফজলুল হক এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, এ তথ্য নিঃসন্দেহে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইঙ্গিত। আর এটা পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের জন্য সুখবরও বটে। কারণ তুলার আমদানি বৃদ্ধি মানেই রফতানি বৃদ্ধি। আবার স্থানীয় বাজারে তুলার চাহিদা বৃদ্ধিরও আভাস দিচ্ছে এটি। এ আভাস বাস্তবে রূপ নিলে তা হবে বিশাল অর্জন। কারণ চীনকে টপকে যাওয়া বড় ব্যাপার। কেননা দেশটি একই সঙ্গে তুলার উৎপাদক ও আমদানিকারক। তাই পণ্যটির বাজারমূল্যে দেশটি প্রভাব রাখতে পারে। অর্থনৈতিক মন্দায় তাদের চাহিদা কমে যাওয়ায় বর্তমানে তুলার দাম গত ১০ বছরে সর্বনিম্ন।

চীনে তুলা আমদানি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বেশকিছু সমস্যা চিহ্নিত করেছে ইউএসডিএ। প্রথমত. শিল্প খাতে শ্লথগতির বিপরীতে মজুরি প্রবৃদ্ধি নিয়ে সমস্যায় রয়েছে দেশটি। এর ওপর দেশটিতে তুলার মজুদ রয়েছে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি। ইউএসডিএর হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে চীনে তুলার মোট মজুদ দাঁড়াতে যাচ্ছে ১০ কোটি ৪৪ লাখ বেল। এছাড়া বাংলাদেশ এবং এশিয়ার অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে তা বাড়লেও কোটা ও ট্যারিফ-সংক্রান্ত ঝামেলায় আমদানি কমছে চীনের।

জানা গেছে, ১৯৯৫ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বৈশ্বিক তুলা আমদানিতে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। প্রধানত. তৈরি পোশাক শিল্পের (আরএমজি) উন্নতির কারণেই পণ্যটির আমদানি বেড়েছে দেশে। ২০০৯ সাল থেকেই বৈশ্বিক পোশাক রফতানিতে দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে এক্ষেত্রে চীনের অবস্থান প্রথম।

বিকেএমইএর সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, চলতি অর্থবছরের শুরুতে পোশাক রফতানি কিছুটা হোঁচট খেলেও এখন আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। ২০২১-এর মধ্যে ৫০ বিলিয়নের যে লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে, তা অর্জনের জন্য ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে। তুলার শীর্ষ আমদানিকারক হওয়ার প্রক্ষেপণ বাস্তবে ঘটলে ৫০ বিলিয়নের লক্ষ্য অর্জনে কোনো সমস্যা হবে না, এ তথ্য সে আশাই জাগাচ্ছে। অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সকে মোকাবেলা করে আমরা যে ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছি, তার প্রতিফলন এ তথ্যের মাধ্যমে ফুটে উঠছে।

মার্কিন কৃষি বিভাগের আলোচ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গেও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। সেখানেও তুলা আমদানিতে চীনকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের শীর্ষে উঠে আসার আভাস দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি উৎপাদন বর্ষে চীনকে ছাড়িয়ে বৈশ্বিক তুলা আমদানিতে শীর্ষস্থান দখল করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বণিকবার্তা।

sentbe-top