কে এই মুন জে-ইন?

moonদক্ষিণ কোরিয়ার সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন সাবেক মানবাধিকার আইনজীবী মুন জে-ইন। জাতীয় নির্বাচনী কমিশন তাকে ৪১ শতাংশ ভোটে জয়যুক্ত বলে ঘোষণা করেছেন। এর আগে নিজের বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর মুন বলেন, এক নতুন কোরীয় প্রজাতন্ত্রের জন্য দ্বার উন্মুক্ত হলো।

চৌষট্টি বছর বয়স্ক মুনের জন্ম দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ উপকূলের একটি ছোট দ্বীপ গেওজেতে। তার পরিবার কোরীয় যুদ্ধকালীন উত্তর কোরিয়া থেকে উদ্বাস্তু হয়ে আসে। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিলেও শিক্ষা জীবনে সাফল্য পান মুন। সত্তুরের দশকে সিউল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের ছাত্র হিসেবে যোগ দেন তিনি।

সে সময় দেশটির ক্ষমতায় ছিলেন সামরিক স্বৈরাচার পার্ক চুং-হি, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হের বাবা। মুন চুং-হির বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশাধিকার মিললেও স্নাতকের পর সরকারবিরোধী আন্দোলনের কারণে আদালতে যোগ দান করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন তিনি।

এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বুসানে পাড়ি জমান মুন। মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে তিনি কাজ করেন রোহ মু-হিউনের সঙ্গে। ২০০৩ সালে রোহ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি প্রথমবারের মতো সরকারে যোগ দেন রোহের সচিব হিসেবে। কিন্তু নিজের পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা একের পর এক দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হলে শেষ পর্যন্ত ২০০৯ সালে রোহ আত্মহত্যা করে বসেন।

উদারপন্থি মুনের প্রতি রক্ষণশীলদের প্রধান অভিযোগ, তিনি উত্তরের প্রতি অতি নমনীয়, এমনকি তোষামুদে। লঘুচেতা এই নেতার দক্ষিণের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যথেষ্ট সাহস নেই। রোহের আমলে উত্তরের জন্য মুন ‘সূর্যালোক নীতি’ গ্রহণ করেছিলেন। এতে দুই কোরিয়ার শত্রুতা নিরসনে উত্তরকে অবাধ সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, এতে শুধু টাকার শ্রাদ্ধই হয়েছিল।

কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে মুনের প্রধান সমস্যা দুর্নীতি নিরসন। তরুণ সম্প্রদায়ের কাছে অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিই প্রধান গুরুত্ব পেয়েছে। আর দেশটির দুর্নীতির পেছনে তারা দায়ী করছে সরকারি ও কর্পোরেট দুর্নীতিকে। আগের প্রেসিডেন্ট পার্ক তীব্র জনবিক্ষোভের মুখে গত বছর অভিশংসিত হন এই দুর্নীতির অভিযোগেই। এই কেলেঙ্কারিতে যুক্ত হয়েছিল বিশ্বখ্যাত স্যামসাং কোম্পানির নামও।

মুন নিজের নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে সরকার-কর্পোরেট আঁতাত ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও পরে তার সুর ক্রমান্বয়ে নরম হয়ে আসে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশটির রাজনীতিতে কর্পোরেট প্রভাব এত বেশি যে, রাজনীতিবিদরা পর্যন্ত তা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে ভয় পান।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার প্রধান দায়িত্ব হবে উত্তরের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ করা এবং এ অঞ্চলে মার্কিনিদের নতুন যুদ্ধ শুরু করা থেকে বিরত রাখা। কিম ও ট্রাম্পকে নিজ দেশের জন্য বিপজ্জনক হবে এমন কিছু করা থেকে বিরত রাখা তার জন্য কঠিনই হবে।

তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা অনলাইন