sentbe-top

উচ্চমাধ্যমিক পাশ সালাম মুর্শেদীর মাসিক আয় ৪৭ লাখ টাকা

salam-murshediখুলনা-৪ আসনের (তেরখাদা, দিঘলিয়া ও রূপসা উপজেলা) উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুস সালাম মুর্শেদী উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। বিশিষ্ট এই শিল্পপতি বাসাভাড়া, ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাত থেকে প্রতি মাসে আয় করেন ৪৭ লাখ টাকা।

নির্বাচন কার্যালয়ে সালাম মুর্শেদীর জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। গত রোববার তিনি খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। সঙ্গে হলফনামা জমা দিয়েছেন তিনি। হলফনামায় দেখা গেছে, সালাম মুর্শেদীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘উচ্চমাধ্যমিক’। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা নেই।

রোববার ছিল এই উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ওই দিন পর্যন্ত সালাম মুর্শেদী ছাড়া আর কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি। তাই ধরেই নেওয়া হচ্ছে, সবকিছু ঠিক থাকলে তিনিই হচ্ছেন খুলনা-৪ আসনের সাংসদ।

হলফনামায় সালাম মুর্শেদী তাঁর ৮৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পদ দেখিয়েছেন আরও ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার। এত বিত্তশালী কেউ খুলনায় এর আগে সাংসদ হয়েছেন, এমন নজির নেই।

সালাম মুর্শেদী হলফনামায় পেশার ঘরে লিখেছেন ‘ব্যবসা-প্রাইভেট/পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিসমূহের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/পরিচালক পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বস্ত্রশিল্প, ব্যাংক, হাসপাতাল ইত্যাদি’। বছরে নিজের আয় দেখিয়েছেন ৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ তাঁর প্রতি মাসে আয় ৪৭ লাখ টাকা।

হলফনামায় আয়ের উৎস সম্পর্কে সালাম মুর্শেদী উল্লেখ করেছেন, বাড়িভাড়া থেকে বছরে তাঁর নিজের আয় ১৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা; তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের আয় ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে বছরে নিজের আয় ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা; নির্ভরশীলদের আয় ১৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। শেয়ার সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে নিজের আয় ২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা; নির্ভরশীলদের আয় ৪৭ লাখ টাকা।

sentbe-adসালাম মুর্শেদীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজের নামে নগদ সাড়ে ১৩ লাখ টাকা; স্ত্রীর নামে ৪ লাখ টাকা; নির্ভরশীলদের নামে ১ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজের নামে জমা রয়েছে ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা; স্ত্রীর নামে ১২ লাখ টাকা ও নির্ভরশীলদের নামে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। কোম্পানির শেয়ার রয়েছে নিজের নামে ৬৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার; স্ত্রীর নামে ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকার; নির্ভরশীলদের নামে ১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকার। স্বর্ণ আছে নিজের সাড়ে ৯ হাজার টাকার এবং স্ত্রীর ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার। আসবাবের মূল্য ৩০ হাজার টাকা। অন্যান্য অস্থাবর সম্পদ আছে নিজের নামে ৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকার এবং স্ত্রীর নামে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকার।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে সালাম মুর্শেদীর নিজের নামে থাকা ভবনের মূল্য ১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা; স্ত্রীর নামে থাকা ভবনের মূল্য ৩৪ লাখ টাকা। ব্যাংকে নিজের ঋণের পরিমাণ ৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

সালাম মুর্শেদীর বাড়ি খুলনার রূপসা উপজেলায়। তিনি একজন সফল ফুটবলার হিসেবে পরিচিত। পরে ব্যবসায়ও তিনি সফলতা অর্জন করেছেন। একসময় ছিলেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি।

গত ৩ মার্চ খুলনায় এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। ওই জনসভায় সালাম মুর্শেদী বক্তব্যও দেন। এরপর থেকেই খুলনার রাজনীতিতে সালাম মুর্শেদীর নাম ঘুরতে-ফিরতে থাকে।

সৌজন্যে- প্রথম আলো

sentbe-top