সামরিক শক্তিতে বিশ্বে ৫৬তম বাংলাদেশ

bangladesh-armyসামরিক শক্তির বিচারে ১৩৬টি দেশের মধ্যে ৫৬তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। সামরিক বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার এই তালিকা প্রকাশ করেছে বলে বিবিসির একটি খবরে বলা হয়েছে।

সামরিক শক্তিতে প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং মিয়ানমারের থেকে বেশ পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তালিকায় ভারত ৫ম অবস্থানে এবং মিয়ানমার ৩৫তম অবস্থানে রয়েছে। গত ১২ বছর ধরে এই তালিকা প্রকাশ করে আসছে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার। গত বছর এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৫৭তম।

তবে, সামরিক সরঞ্জামের সংখ্যার ভিত্তিতে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এই তালিকায় সামরিক সরঞ্জামের বৈচিত্র্যের উপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এছাড়াও এই তালিকা তৈরিতে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রাকৃতিক সম্পদসহ আরো কিছু বিষয়। সামগ্রিক সামরিক শক্তি পরিমাপের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী ছাড়াও, নৌ এবং বিমান বাহিনীর শক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা দেখানো হয়েছে ২,২৫,০০০। এছাড়াও, বাংলাদেশের ১৭৩টি সামরিক বাহিনীর বিমান, ৬৪টি হেলিকপ্টার, ৫৩৪টি কমব্যাট ট্যাংক, ৯৪২টি সাঁজোয়া যান, ১৮টি সেলফ-প্রপেলড আর্টিলারি, ৩২ টি রকেট প্রজেক্টর এবং ২ টি সাবমেরিনসহ মোট ৮৯টি সামরিক নৌযান রয়েছে। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সামরিক বাজেট ১৫৯ কোটি মার্কিন ডলার উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে সুইডেনের স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস এন্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় ১২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ঐ প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০০৭ সালে বাংলাদেশে সামরিক খাতে ব্যয় ছিল প্রায় ৬,৬০০ কোটি টাকা, যেখানে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় ২৮,৮০০ কোটি টাকা।

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তালিকায় সামরিক শক্তি বিচারে সবার উপরে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র, আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। এরপর তালিকার প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, ফ্রান্স, বৃটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, তুরস্ক এবং জার্মানি।