cosmetics-ad

এবার জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নামফলক মুছে দিলো ছাত্রলীগ

zia-memorial-museum

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত চট্টগ্রাম জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের সাইন বোর্ড থেকে জিয়ার নাম মুছে দিয়েছে ছাত্রলীগ যুবলীগের কর্মীরা। মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিক্ষা উপমন্ত্রী জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘরে’ রূপান্তরের প্রস্তাব দেয়ার একদিনের মাথায় নামফলকটিতে কালি দেয় তারা। পরে গেটে শিক্ষা উপমন্ত্রী ও সাবেক সিটি মেয়র মরহুম এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেলের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়।

জানা যায়, ১৯১৩ সালে চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউড়ি এলাকায় তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকেরা দৃষ্টিনন্দন ভবনটি নির্মাণ করে, যা পরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথিদের জন্য ব্যবহৃত হতো। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সফরে এসে সার্কিট হাউজের চার নম্বর কক্ষে উঠেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ভোরের দিকে আততীয়দের হাতে তিনি নিহত হন। ওই বছরের ৩ জুন সার্কিট হাউজকে একটি জাদুঘরে রূপান্তরের জন্য সরকারি প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এই জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়। জাদুঘরে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের নমুনা, ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং স্বাধীনতা ঘোষণার ট্রান্সমিশন সংরক্ষিত আছে।

এদিকে চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ীস্থ জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম পরিবর্তন করার সরকারি সিদ্ধান্ত ও নামফলক থেকে ছাত্রলীগ কর্তৃক জিয়ার নাম মুছে ফেলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, উপদেষ্টা বেগম রোজী কবীর, গোলাম আকবর খন্দকার, এস এম ফজলুল হক ফজু, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। গতকাল এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, অসীম সাহসিকতা, সততা, নিষ্ঠা ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের প্রতীক জিয়াউর রহমানের অবদান দেশের জন্য অসামান্য। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টরের কমান্ডার ও জেডফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন। তিনি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের বিশ্ব মানচিত্রে ব্যাপকভাবে পরিচিত করিয়েছেন স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে। বীর উত্তম জিয়াউর রহমানের সৈনিক ও রাজনৈতিক জীবনের সততা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রম প্রতিটি মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবেও তার পরিচিতি সর্বজনবিদিত।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের এক চরম ক্রান্তিকালে সিপাহি-জনতার মিলিত প্রয়াসে জিয়াউর রহমান দেশের হাল ধরেছিলেন। রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে আমৃত্যু চেষ্টা চালিয়েছিলেন। জাতির মধ্যে একটি উদ্দীপনা সৃষ্টি করে তাদের জাগিয়ে তুলতে তিনি সফল হয়েছিলেন। দেশের সকল সঙ্কট মুহূর্তে তিনি ত্রাণকর্তা হিসেবে বারবার অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা মুখেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন কিন্তু তারা মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। সে জন্যই একজন সেক্টর কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের নামফলক মুছে ফেলার মত ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে গোটা মুক্তিযুদ্ধকে অপমানিত করেছে। তাদের এই উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনীতিকে বিপজ্জনক যুগে নিয়ে যাচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্থান। এই সার্কিট হাউজেই তিনি নিহত হয়েছিলেন। নামফলক থেকে জিয়ার নাম মুছে ফেললেও বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় থেকে জিয়ার নাম মুছে ফেলা যাবে না। চট্টগ্রামের জনগণ সরকারের এ হঠকারী সিদ্ধান্ত কখনোই মেনে নেবে না। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জিয়া স্মৃতি যাদুঘরের নাম ফলকে পুনরায় শহীদ জিয়ার নাম পুনঃস্থাপন করে নাম পরিবর্তনের সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।