sentbe-top

ফেসবুক আসক্তি স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে

সিউল, ১০ মার্চ, ২০১৩:

ফেসবুকে আসক্তির কারণে ব্যবহারকারীরা তাদের খাবারের সময়সূচি ঠিক রাখতে পারেন না। এতে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সম্প্রতি তাদের এক জরিপের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

প্রাথমিকভাবে শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুক চালু করা হয়েছিল যোগাযোগ রক্ষার জন্য। পরিচিত অনেক বন্ধু রয়েছে, যাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে গ্রাহকরা যাতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পারেন, সে লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছিল ফেসবুক।

Facebook-troubleকিন্তু বর্তমানে গ্রাহকরা সামাজিক যোগাযোগ রক্ষার চেয়ে অনুভূতি প্রকাশেই ফেসবুক বেশি ব্যবহার করছেন। তারা সাইটটিতে নিয়মিতই বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছেন। এ সাইট ব্যবহারে অনেকের মধ্যে আসক্তি লক্ষ করা যাচ্ছে। এ ধরনের আসক্তি ব্যবহারকারীদের শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে।

দীর্ঘ সময় সাইটটিতে বসে থাকার কারণে অনেকেই তাদের খাবারের কথা ভুলে যান। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক পামেলা কে কিল ৯৬০ জন কলেজপড়ুয়া নারী শিক্ষার্থীর ওপর এক জরিপ চালান। এ জরিপে ফেসবুক আসক্তির কারণে খাবারে অনিয়মিত হওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

জরিপে দেখা যায়, অধিকাংশই তাদের দিনের বড় একটি সময় ফেসবুকের পেছনে ব্যয় করেন। তারা বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেয়ার পাশাপাশি, স্ট্যাটাসে মন্তব্য করা, লাইক দেয়া, ছবি পোস্ট করা, অন্যের ছবিতে লাইক দেয়া ইত্যাদিতে ব্যস্ত থাকেন। উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হলো এদের মধ্যে যারা নিজেদের ছবি পোস্ট করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন, তারা খুব সহজে এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না।

অন্য আরো অনেক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে যেকোনো সামাজিক যোগাযোগ সাইট অতিরিক্ত ব্যবহারের সঙ্গে অনিয়মিত খাবারের সম্পর্ক নিরূপণে এরই মধ্যে জরিপ চালিয়েছে। কিন্তু ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন জরিপটিতে উঠে আসে যে মাত্র ২০ মিনিট ব্যবহারের ফলেই ব্যবহারকারীদের অনিয়মিত খাবারে অভ্যাসের পাশাপাশি খাবারে অরুচিও তৈরি হয়। মাত্র ২০ মিনিট নিয়মিত ফেসবুকসহ যেকোনো সামাজিক যোগাযোগ সাইট ব্যবহারের সঙ্গে নারীদের ওজন ও দুশ্চিন্তা বৃদ্ধির বিষয়টিও জরিপে উঠে আসে।

পামেলা তার প্রতিবেদনে আরো জানান, খাবারে নিয়মিত অনিয়ম করলে বড় ধরনের শারীরিক সমস্যার সূত্রপাত হতে পারে। এ কারণে তিনি সামাজিক যোগাযোগ সাইট ব্যবহারকারীদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সাইটগুলো ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। তবে এ জন্য ব্যবহারকারীদের সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোর নিয়মিত গ্রাহকসংখ্যা ক্রমে বেড়েই চলেছে। এতে ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির পরিমাণ বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। সূত্রঃ বণিকবার্তা।

sentbe-top