sentbe-top

রাসুল (সা.) যেভাবে রমজানে শেষ দশ দিন কাটাতেন!

muhammadরমজানের শেষ দশ দিনে, এতেকাফকালীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাতেন, পরিশ্রম করতেন কঠোরভাবে।

হাদিসে এসেছে, উম্মুল মোমিনীন আয়েশা রা. বলেন : রমজানে লোকেরা মসজিদে সালাত আদায় করত…(উক্ত হাদিসের একাংশে আছে, রাসুল সকলকে সম্বোধন করে ইরশাদ করেন— হে লোক সকল ! আল-হামদুলিল্লাহ ! আজ রাত আমি গাফলতিতে যাপন করিনি। এবং তোমাদের অবস্থানও আমার অবিদিত নয়। [আবু দাউদ : ১৩৭৪, হাদিসটি সহি।]

ভিন্ন এক হাদিসে আয়েশা বলেন : রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য সময়ের তুলনায় রমজানের শেষ দশ দিনে অধিক-হারে পরিশ্রম করতেন। [মুসলিম : ১১৭৫।]

অপর বর্ণনায় তিনি বলেন : শেষ দশ দিনে প্রবেশ করে রাসুল রাত্রি জাগরণ করতেন, পরিবারের সকলকে জাগিয়ে দিতেন এবং পূর্ণভাবে প্রস্ত্ততি গ্রহণ করতেন, পরিশ্রম করতেন। [ মুসলিম : ১১৭৪।]

‘শেষ দশ দিনে প্রবেশ করে তিনি রাত্রি জাগরণ করতেন’—হাদিসের এ অংশ দ্বারা প্রমাণ হয়, প্রথম বিশ দিন রাসুল পূর্ণ রাত্রি জাগরণ করতেন না, বরং, কিছু সময় ইবাদত করতেন, ঘুমিয়ে কাটাতেন কিছু সময়। শেষ দশ দিনে তিনি, এমনকি, বিছানাতেও গমন করতেন না। রাতের পুরোটাই এবাদতে ব্যয় করতেন। [আয়েশা রা. হতে বর্ণিত এক যইফ হাদিসে (মুসনাদ : খন্ড : ৬, পৃষ্ঠা : ১৪৬) এসেছে—প্রথম বিশ দিনে রাসূল ঘুম ও এবাদতে কাটাতেন। শেষ দশ দিনে পুর্ণভাবে প্রস্ত্ততি নিয়ে এবাদতে নিমগ্ন হতেন।]

হাদিসগুলো প্রমাণ করে : রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দশ দিন এবাদতে হতেন কঠোর পরিশ্রমী, আল্লাহর দরবারে নিজেকে পেশ করতেন নতজানু ও বিনয়াবনত রূপে। সালাত, সিয়াম, সদকা, কোরআন পাঠ, জিকির, দোয়া, তাওয়াক্কুল, আশা ও ভীতি, মোহাসাবা, তওবা, অন্তরের একাগ্র উপস্থিতি—ইত্যাদি এবাদতের মৌলিক বিষয়গুলো তিনি পূর্ণভাবে রূপায়ণ ও সম্মিলন করতেন এ কয় দিনে।

রাসুলের সেই হেদায়েত অনুসারে আমাদের অবস্থা বিচার করলে সহজে আমাদের অবস্থা ও চিত্র ফুটে উঠে—যা খুবই হতাশাকর, দুর্গতি আক্রান্ত ও অশুভ পরিণতিময়।

মূল : ফায়সাল বিন আলী আল বাদানী
অনুবাদ : কাউসার বিন খালেদ
সম্পাদনা : ড. মাওলানা মুহাম্মাদ শামসুল হক সিদ্দিক
গ্রন্থনা : মাওলানা মিরাজ রহমান

সৌজন্যেঃ প্রিয়.কম

sentbe-top