sentbe-top

জঙ্গিবিরোধী অভিযানে আরো ৩ হাজার গ্রেফতার

sarasi-550x367দেশব্যাপী জঙ্গিবিরোধী বিশেষ অভিযানের তৃতীয় দিন রোববার সকাল থেকে গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত ৩৪ জঙ্গিসহ মোট ৩ হাজার ২৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২৫ জন জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), তিনজন হিজবুত তাহ্রীর,তিনজন আনসার আল ইসলাম ও তিনজন ‘আল্লাহর দল’ সদস্য।

এ নিয়ে তিনদিনে বিশেষ অভিযানে সাড়ে আট হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১১৯ জন রয়েছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য।

পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় দিনে ঢাকা রেঞ্জের টাঙ্গাইল জেলায় এক জেএমবি সদস্য, ময়মনসিংহ রেঞ্জের শেরপুরে এক আল্লাহর দল সদস্য, জামালপুরে তিন জেএমবি সদস্য, ময়মনসিংহে এক জেএমবি সদস্য, রাজশাহী রেঞ্জের রাজশাহী, নওগাঁ ও পাবনায় একজন করে জেএমবি সদস্য ও বগুড়ায় তিন জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এছাড়া খুলনা রেঞ্জের নড়াইলে এক, সাতক্ষীরায় এক, বাগেরহাটে এক ও ঝিনাইদহে দুই আল্লাহর দল সদস্য এবং যশোরে দুই ও মেহেরপুরে এক জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রংপুর রেঞ্জের রংপুরে এক, গাইবান্ধায় এক, নীলফামারীতে এক, দিনাজপুরে এক, ঠাকুগাঁওয়ে এক ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের নোয়াখালীতে এক হিজবুত তাহ্রীর সদস্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক জেএমবি সদস্য, সিলেট রেঞ্জের সিলেটে এক হিজবুত তাহ্রীর সদস্য, বরিশাল রেঞ্জের পিরোজপুরে এক জেএমবি এবং ঢাকায় এক হিজবুত তাহ্রীর ও তিন আনসার আল ইসলাম সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এসব আসামির মধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা সূত্রে ২ হাজার ৫৭৮ জন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার মামলায় ১৯, মাদক উদ্ধার মামলায় ১৬০ ও অন্যান্য মামলায় ৪৫৪ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, সাতটি ম্যাগজিন, আটটি চাপাতি, ৩৩ রাউন্ড গুলি, দুটি পেট্রলবোমা, ৩১টি ককটেল ও ২৮টি উগ্রপন্থী বইসহ অন্যান্য ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

গাইবান্ধা: জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রোববার সকাল থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এক জেএমবি সদস্যসহ মোট ৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্যের নাম আতিকুর রহমান। তিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের শান্তিরাম গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। গ্রেফতারকৃত অন্যদের মধ্যে এক বিএনপি নেতা ও দুজন জামায়াতকর্মীও রয়েছেন। জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহম্মেদ জানিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে জেলার বিভিন্ন থানা থেকে ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক মামলার আসামিও রয়েছে।

রাজশাহী: রোববার রাতভর রাজশাহী জেলা ও নগরজুড়ে অভিযান চলিয়ে এক জেএমবি সদস্যসহ মোট ১০৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে রাজশাহী নগরী থেকে ৪৯ এবং অন্যান্য উপজেলা থেকে ৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল দুপুরের দিকে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান, রোববার রাতভর তারা বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার করেছেন ৪৯ জনকে। এদের মধ্যে ২৩ জন বিভিন্ন মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।

অন্যদিকে রাজশাহীর পুলিশ সুপার নিসারুল আরিফ জানান, জেলা পুলিশের অভিযানে এক জেএমবিসহ গ্রেফতার হয়েছে ৫৪ জন। তাদের অধিকাংশই গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। অন্যরা মাদক-সংক্রান্ত মামলার আসামি।

যশোর: রোববার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলার নয়টি থানায় অভিযান চালিয়ে দুই জঙ্গি সদস্যসহ ৯২ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক দুই জঙ্গি সদস্য হলেন— অভয়নগর উপজেলার সিদ্দিপাশা গ্রামের ইমান আলীর ছেলে এসএম উজ্জ্বল ও মাহতাব মুন্সীর ছেলে মোহাম্মদ আলী মুন্সী।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, রোববার রাতে সিদ্দিপাশা আহমদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সরকারবিরোধী বৈঠক করছিল জঙ্গিরা। গোপনে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে হিজবুত তাহ্রীরও আল্লাহর দলের সক্রিয় সদস্য উজ্জ্বল ও মোহাম্মদ আলীকে আটক করেছে। এ সময় সেখান থেকে সরকারবিরোধী কিছু লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত যশোর জেলায় অভিযান চালিয়ে দুই জঙ্গি সদস্যসহ ৯২ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ জামায়াত-শিবির কর্মী রয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন মামলার আসামি।

বগুড়া: তৃতীয় দিনের অভিযানে বগুড়ায় তিন জেএমবি সদস্য ও জামায়াত-শিবিরের ছয় কর্মীসহ মোট ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্যরা হলেন— শিবগঞ্জের আটমূলের আবদুল আউয়াল, গাবতলীর আহসান হাবিব ও শাজাহানপুরের আবু তাহের। এর মধ্যে তাহের সাড়ে আট বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছেন।

বগুড়ার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান জানান, সদর উপজেলাসহ জেলার সব থানায় এ অভিযান চলছে। এর মধ্যে বগুড়া সদর এলাকা থেকে ২৭ জন, শিবগঞ্জে ১৬, সোনাতলায় চার, গাবতলীতে পাঁচ, সারিয়াকান্দিতে পাঁচ, শেরপুরে ছয়, নন্দীগ্রামে নয়, আদমদীঘিতে ছয়, দুপচাঁচিয়ায় পাঁচ, কাহালুতে ছয়, শাজাহানপুর থেকে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

খুলনা: রোববার সকাল থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সময়ে খুলনা থেকে ১২৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) মুখপাত্র সহকারী পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঠু জানান, খুলনা মহানগরীর আট থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই জামায়াত নেতাসহ ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ারের ছোট ভাই ও খানজাহান আলী থানা জামায়াতের আমির মিয়া গোলাম কুদ্দুস এবং লবণচরা থানার জলমা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি মো. ওহিদুল ইসলামের নাম উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ওয়াচ) আব্দুর রশিদ জানান, ২৪ ঘণ্টায় জেলার নয় থানায় ৯০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন জামায়াত নেতা রয়েছেন।

মাগুরা: শ্রীপুর থানা পুলিশ জঙ্গি সন্দেহে দুই যুবককে আটক করেছে। গত রোববার রাতে শ্রীপুর সদর ইউনিয়নের হরিন্দি গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন— হাসান আলী ও সুজন আলী। এদের দুজনের বাড়িই নাটোর।

শ্রীপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই শরিফুল ইসলাম বলেন, রোববার রাত ১১টার দিকে টহলরত লাঠি-বাঁশি ডিফেন্স পার্টির সদস্যরা এলাকায় দুই যুবককে ঘোরাঘুরি করতে দেখে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে।বণিক বার্তা।

sentbe-top