ভারতীয় রাজকন্যার কোরিয়ান রানী হওয়ার গল্প

যদি বলা হয় ভারতের এক রাজকন্যা আর দক্ষিণ কোরিয়ার রাজা মিলে একসময় রাজবংশ গড়ে তুলেছিলেন, বিশ্বাস করবেন? হয়তো গল্প বলেই উড়িয়ে দেবেন, তবে দক্ষিণ কোরিয়ার অনেকের বিশ্বাস এটাই।

তারা বিশ্বাস করেন, খ্রিস্টপূর্ব ৪৮ অব্দে রাজকন্যা সুরিরত্ন, যিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় হেও হোয়াং-ওক নামে পরিচিত, ভারতের আয়ুটা থেকে কোরিয়ায় এসে এখানকার রাজা কিম সুরোকে বিয়ে করেন। আর এ থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার কিমাহে শহরে গড়ে ওঠে করক রাজবংশ। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট কিম-দায়ে জং এবং প্রধানমন্ত্রী কিম জং-পিল এই করক রাজবংশেরই সদস্য। আর আজকের অযোধ্যাই হল এই আয়ুটা।

প্রচলিত কিছু চীনা কাহিনী অনুসারে, অযোধ্যার রাজা একরাতে স্বপ্ন দেখেন ঈশ্বর তাকে রাজা কিমকে বিয়ে করার জন্য তার ষোড়শী রাজকন্যাকে কোরিয়ায় পাঠানোর আদেশ করছেন।

ভারত সফরের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার ফার্স্ট লেডী এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ

তবে কোরিয়ার সবাই যে এ কাহিনী বিশ্বাস করে না সে কথা বলাই বাহুল্য। অনেকে এটিকে স্রেফ গল্প বলেই মনে করেন। আবার অনেকের মতে ভারতের অযোধ্যা নয়, রাজকন্যা এসেছিলেন থাইল্যান্ডের আয়ুথ্যায়া রাজ্য থেকে। কাহিনীর সত্যতা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যেও আছে দ্বিমত। তাদের অনেকেই এটিকে শুধুই ‘মিথ’ মনে করেন। আবার কিম বুয়াং-মো নামের এক নৃ-তত্ত্ববিদের মতে আয়ুটা থেকেই অযোধ্যা নামটি এসেছে, যেহেতু এ নামদুটি শুনতে প্রায় একইরকম।

তবে যে যাই মনে করুক না কেন, এই কাহিনীর সূত্র ধরে কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের মধ্যে বেশ ভাল কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। ২০০০ সালে অযোধ্যা ও কিমাহেকে সিস্টার সিটি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দু দেশের মধ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০০১ সালে শতাধিক ঐতিহাসিক, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য সরকারি কর্মচারীর উপস্থিতিতে অযোধ্যার সারিয়ু নদীর তীরে রাজকন্যা হেও হোয়াং-ওকের মূর্তি উন্মোচন করা হয়। ২০১৬ সালে এই মূর্তিটি আরো উন্নত করার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার এক প্রতিনিধিদল ভারতের উত্তর প্রদেশের সরকারকে প্রস্তাব দেয়। আর এই কাজ সম্প্রতি উদ্বোধন করেন দক্ষিণ কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি।

ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রে হেও হোয়াং-ওকের গল্প কিন্তু দারুণ কাজ করছে!

সূত্র: বিবিসি