sentbe-top

এক চীনা নারীর মুসলমান হওয়ার গল্প

china-muslim-womanবিশ বছর আগে আরব আমিরাত ভ্রমণে এসেছিলেন চীনা নারী রেম হং। সে সময় তার বয়স ছিল ২২ বছর। ইংরেজি দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এসেছিলেন তিনি। কিন্তু এই ভ্রমণই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা খালিজ টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে নিজের মুসলমান হওয়ার ঘটনা জানান তিনি।

রে হং জানান, ২০ বছর পরে বর্তমানে রেম হং চার সন্তানের জননী এবং তিনি আমিরাতে একটি সফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন যার উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রাচ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা। প্রকৌশলী স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার তিন বছর আগে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। সেসময় তার স্বামী চাচার ব্যবসায়ে কর্মরত ছিলেন এবং তার সাথে রে হংয়ের পিতার ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল।

রে হং বলেন, ‘আমি এখানে অতোটা বাধার সম্মুখীন হই নি, এখানকার সাথে ঐতিহ্যগত যে বিষয়টি আমাদের সাথে মিলে না তা হচ্ছে, এখানে আমি শুরু থেকেই ঐতিহ্যবাহী আবায়া পরিধান করে আসছি। আমি প্রথমে এটি পরিধান করতে চাইনি কিন্তু বর্তমানে আমি তা নিজের ইচ্ছাতে আনন্দের সাথে পরিধান করি। আমি একে স্বাচ্ছন্দময় এবং খুবই মার্জিত বলে মনে করি।’

তিনি তার আমিরাতি স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সংবাদ তার পরিবারকে জানানো সম্পর্কে স্মৃতি চারণ করেন। রে হং যখন প্রথমে তাদের এ সম্পর্কে জানান, তখন তার পিতামাতা তাদের একমাত্র কন্যাকে তাদের নিকট থেকে অনেক দূরে থাকতে হবে এই ভেবে কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিল। কিন্তু শীঘ্রই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।

রে হং এবং তার স্বামীর বর্তমানে চারজন সন্তান রয়েছে এবং তারা সবাই আরবি, ইংরেজি আর ম্যান্ডারিন ভাষায় পারদর্শী হয়ে উঠেছেন। তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, তার সন্তানেরা চীন এবং আরব আমিরাত এ দুদেশের সবচেয়ে উত্তম সংস্কৃতি সম্পর্কে জেনে বেড়ে উঠেছে। তিনি এবং তার স্বামী একই সাথে চীনা ঐতিহ্য এবং আমিরাতের সংস্কৃতির মেল বন্ধন ঘটিয়ে তাদের সন্তানদের কে বড় করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। এই পরিবারটি বছরে অন্তত দুবার চীন সফর করে।

sentbe-top