cosmetics-ad

বাংলাদেশের আকাশে ‘হাঙর বিমান’

hangor-bimanবিশ্বজুড়ে পরিভ্রমণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে প্রদর্শিত হলো ব্রাজিলিয়ান আকাশযান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এমব্রায়ারের তৈরি ই১৯০-ই২ উড়োজাহাজ। এর সামনের অংশে হাঙরের মুখ আঁকা। বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটি ঘুরে দেখেছেন দেশের এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্টরা। প্রায় একঘণ্টা তাদের নিয়ে বাংলাদেশের আকাশে ওড়ে ‘হাঙর বিমান’।

জানা গেছে, বুধবার (২০ মার্চ) বিকালে বাংলাদেশে আসে এমব্রায়ারের তৈরি উড়োজাহাজটি। বাংলাদেশে পরিভ্রমণ শেষে মালয়েশিয়ায় এয়ার শোতে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার চলে গেছে এটি।

হাঙর বিমানবিচিত্র নকশার সুবাদে এমব্রায়ারের এই আকাশযান বিশ্বব্যাপী এভিয়েশন সংশ্লিষ্ট ও যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এতে শুধু হাঙর নয়; বাঘ, ঈগলসহ নানান প্রাণীর মুখ দিয়ে নকশা করেছে বিভিন্ন এয়ারলাইনস। এর মধ্যে হাঙরের মুখ আঁকা উড়োজাহাজটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পরিদর্শন করছে।

hangor-bimanহাঙর বিমান এমব্রায়ারের ভাইস প্রেসিডেন্ট (এশিয়া প্যাসিফিক) সিজার পেরেইরা উড়োজাহাজটি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ই সিরিজের জেট বিমানগুলোর মধ্যে ই১৯০ই২ অন্যগুলোর তুলনায় ১০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ী। এছাড়া উড়োজাহাজটির নকশায় রয়েছে নতুনত্ব। এর কেবিনে একক, কেবিন ব্যাগেজের জন্য বড় বিন, বড় জানালা, আসন বিন্যাস সবই যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য জুতসই।’

হাঙর বিমানসিজার পেরেইরা আরও উল্লেখ করেন, উড়োজাহাজটি টানা ছয় ঘণ্টা উড়তে সক্ষম। এতে ১১৪টি পর্যন্ত আসনের ব্যবস্থা রাখা যায়। বর্তমানে ৬০টি দেশের ১১১টি এয়ারলাইনস এই বিমান ব্যবহার করে যাত্রীসেবা দিচ্ছে।

উড়োজাহাজটি প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চিফ অব সেফটি ক্যাপ্টেন শোয়েব চৌধুরী বলেন, ‘উড়োজাহাজটি নিঃসন্দেহে আধুনিক। যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য এটি উপযুক্ত। তবে যেকোনও এয়ারলাইনসের রুট প্ল্যান ও যাত্রীর ধারণক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ব্যবসায়িক সাফল্য।’

হাঙর বিমানইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের সিইও আসিফ ইমরান বলেন, ‘এমব্রায়ার দাবি করছে এটি জ্বালানি সাশ্রয়ী। কম জ্বালানিতে চলে এমন উড়োজাহাজই যেকোনও এয়ারলাইনসের কাছে কাঙ্ক্ষিত। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এটি কতটা সহায়ক তা আরও পর্যবেক্ষণের পর বলা সম্ভব।’

১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এমব্রায়ার। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইনসকে আট হাজারেরও বেশি উড়োজাহাজ সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সৌজন্যে- বাংলা ট্রিবিউন