cosmetics-ad

বিমান বানিয়ে ওড়ানোয় পাকিস্তানি যুবক গ্রেফতার

pak

স্বাধীনতা খুইয়ে বিমান বানানো মাশুল দিতে হয়েছে পাকিস্তানের মোহাম্মদ ফাইয়াজকে। পাকিস্তান টুডে’র খবর অনুযায়ী বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ কাগজপত্র উপস্থাপনে ব্যর্থতার দায়ে পাঞ্জাব পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। স্পষ্টতই তিনি বিমানটি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পারমিট নেননি এবং তিনি বিমান তৈরির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।

আরিফওয়ালা শহরের পপকর্ন বিক্রেতা ও নিরাপত্তারক্ষী হিসাবে কাজ করা ফাইয়াজের মতে, তিনি বিমানটি নিজেই নির্মাণ করেছিলেন। তিনি বলেন, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের এয়ার ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন সিরিজটি দেখে তিনি বিমান নির্মাণের অনুপ্রেরণা পান। অনুষ্ঠানটি দেখে তার আকাক্সক্ষা জাগায় তিনি নিজের হাতে বিমান তৈরির পরিকল্পনা করেন।

ফাইয়াজ তার উপার্জন থেকে অর্থ বাঁচান এবং প্লেন নির্মাণের খরচ যোগাতে একটি ক্ষেত বিক্রি করেন। এরপরও তার প্রয়োজনীয় অর্থ সংগৃহীত হয়নি। অবশেষে জমির বিক্রির পরও বিমান তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেন।

বিমানটির ওজন দাঁড়ায় ২২ কেজি এবং এতে খরচ হয় ৭২৫ ডলার (বাংলাদেশি প্রায় ৬১ হাজার টাকা)। গত সোমবার ফাইয়াজ তার তৈরি বিমান পরীক্ষা করার জন্য প্রস্তুতি নেন। তিনি বিমানটি একটি দীর্ঘ রাস্তায় নিয়ে গেলেন যেখানে তার উড়ানের পথে কোনো বাধা ছিল না। অবশেষে বিমানটি রাস্তার ওপর থেকে উড়ে গেল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তার সাফল্য দেখতে ৫শ’রও বেশি মানুষ সেখানে ছিল। মোহাম্মদ ফাইয়াজ অনেকবার মাঠের আকাশে চক্কর দেন এবং পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতারের আগে সফলভাবে সমতলে অবতরণ করেন।

ফাইয়াজ বলেন, ‘আমি কঠোর পরিশ্রম করে বিমান তৈরি করেছি। আমার বিমান ১ হাজার ফুট পর্যন্ত উড়ে যেতে পারে’। তিনি তার কৃতিত্বের জন্য গর্বিত ছিলেন, কিন্তু তার গর্ব তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য পুলিশকে সন্তুষ্ট করার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

ফাইয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগে অনুমতি ছাড়া বিমান নির্মাণ ও ওড়ানো অন্তর্ভুক্ত। পুলিশ জানায়, বিমানটি ওড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে তিনি ব্যর্থ হন। পাকিস্তানে আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণকারী কঠোর আইন রয়েছে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে কোনো বিমান চালানোর অনুমতি নেই।

ফাইয়াজ গণমাধ্যমকে বলেন যে, তিনি কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে গেছেন, কিন্তু কেউই তার মূল্যায়ন করেনি। ‘আমাকে একটা সুযোগ দিন যাতে আমি প্রমাণ করতে পারি যে, আমি দেশপ্রেমিক পাকিস্তানী। আমি প্রতিটি বিভাগকে জানালাম, কিন্তু কেউ আমার কথায় কর্ণপাত করেনি’ এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন। এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি কী হতে পারে তা স্পষ্ট নয়, তবে আশা করা যায় ফাইয়াজ শিগগিরই মুক্ত হয়ে যাবেন এবং সম্ভবত তার সাথে তার গৃহে নির্মিত বিমানটি নিয়ে যাবেন।

সূত্র: নিউজ রিপাবলিক