
সংগৃহীত ছবি
পাকিস্তানের নূর খান এয়ারবেজে ইরানের সামরিক বিমান আশ্রয় নিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এমন দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘অতিরঞ্জিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানে অবস্থান করা ইরানি বিমানগুলোর সঙ্গে কোনো সামরিক প্রস্তুতি বা মার্কিন হামলা এড়ানোর কৌশলের সম্পর্ক নেই।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ এক বিবৃতিতে সিবিএস নিউজের তথ্যকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে যুদ্ধবিরতির পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান শান্তি প্রচেষ্টা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবেই এসব বিমান পাকিস্তানে এসেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’র প্রথম ধাপে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের বিমান পাকিস্তানে যাতায়াত করেছে। মূলত কূটনীতিক, নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক দলের যাতায়াত সহজ করতেই এই লজিস্টিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। আনুষ্ঠানিক আলোচনা পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত কিছু বিমান ও সহায়ক কর্মী সাময়িকভাবে পাকিস্তানে অবস্থান করছে বলেও জানানো হয়েছে।
এর আগে সিবিএস নিউজ দাবি করেছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরানের কয়েকটি বিমান, যার মধ্যে আরসি-১৩০ গোয়েন্দা বিমানও রয়েছে, রাওয়ালপিন্ডির কাছে নূর খান এয়ারবেজে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তান গোপনে ইরানকে তাদের বিমানসম্পদ রক্ষার সুযোগ দিচ্ছে। তবে পাকিস্তান এসব অভিযোগকে অনুমাননির্ভর ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে উল্লেখ করেছে।
পাকিস্তানের দাবি, তারা বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে একটি নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামাবাদে দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়ে থাকতে পারে।






































